পেঁয়াজ ও গম তোলার মৌসুম

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারছে না কৃষক

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২০, ২১:৪৯

সারা বিশ্ব আজ করোনা ভাইরাসে নিজেরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে লকডাউনের ডাক দিয়েছে। এই ভাইরাস থেকে দেশবাসীকে রক্ষা করতে সরকার লকডাউনসহ সকল প্রকার যানবাহন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে, ১০ দিনেরে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের। তবে সামাজিক দূরত্ব ও নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না সাঁথিয়ার কৃষক। কারণ বর্তমানে উপজেলায় চলছে পেঁয়াজ ও গম ঘরে তোলার মৌসুম। সরেজমিনে সাঁথিয়ার ঘুঘুদহ বিলপারের বিষ্ণুপুর মাঠে দেখা গেছে, কৃষকরা পরিবারের সদস্য ও শ্রমিক সঙ্গে নিয়ে নিজেদের আবাদ করা জমি থেকে পেঁয়াজ সংগ্রহ করছেন। কোনো কোনো জমিতে চার থেকে সাত জন শ্রমিক এক সঙ্গে কাজ করছেন। তাদের কারো মুখে মাস্ক বা অন্য কোনো করোনা প্রতিরোধক নেই। সাবান ছাড়াই হাত ধুয়ে সকাল ও দুপুরের খাবার মাঠে বসেই খাওয়া হচ্ছে। মাঠের প্রায় প্রতিটি জমিতে কৃষক শ্রমিক সঙ্গে নিয়ে ফসল সংগ্রহ করছেন। পেঁয়াজের পাশাপাশি রসুন, গম ও ধানের জমিতেই শ্রমিকরা দল বেঁধে কাজ করছেন। কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, দল বেঁধে এক সঙ্গে বসে পাঁচ থেকে ১০ জন মহিলা পেঁয়াজের মাথা কাটছেন। উপজেলার সকল মাঠ ও পেঁয়াজ চাষির বাড়ির চিত্র একই। করোনা ভাইরাস থেকে নিজেদের ঘরে রাখতে যে শিক্ষার্থীদের সরকার ছুটি ঘোষণা করছে তাদেরও পাওয়া যাচ্ছে মাঠে। বিষ্ণুপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক জানান, পেঁয়াজ সংগ্রহের সময় হয়েছে। বর্তমানে বাজার ভালো। বৃষ্টি হলে এ পেঁয়াজ ঘরে রাখা যাবে না, দামও কম হবে। তাই করোনার ভয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। সারা বছরের পরিবারের খরচ এ পেঁয়াজ থেকে চলে। ফসল ঘরে তোলার পরে করোনা নিয়ে ভাবতে হবে। একই মাঠে স্বপরিবারে পেঁয়াজ সংগ্রহ করা কৃষক বাদশা বলেন, করোনার জন্য ঘরে বসে থাকলে ফসল তো ঘরে উঠবে না। বৃষ্টি হলে সব শেষ হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সঞ্জীব গোস্বামী জানান, মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে করোনা বিষয়ে সচেতন করছি। ইউনিয়ন ভিত্তিক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে করোনা বিষয়ে ধারণা দিচ্ছে। করোনা প্রতিরোধে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিজেও মনিটরিং করছি।