ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা পৌরসভার পৌলি ব্রিজ থেকে বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপার পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তীব্র যানজট দেখা দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট তীব্র হয়। ফলে ভোগান্তিতে পড়েন ঘরমুখো হাজারও যাত্রী। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে সরেজমিনে দেখা গেছে, সেখানকার রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ শেষ না হওয়ায় ধীরগতিতে পার হচ্ছে যানবাহন। এদিকে অধিকাংশ দোকান বন্ধ থাকায় পানি ও খাদ্য সংকটে সমস্যায় পড়েন যাত্রীরা। করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার ১০ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করায় ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে রওনা দেন অনেকেই। বগুড়ার মো. সাগর মিয়া জানান, সরকার ছুটি দিয়েছে। তাই বাবা-মার সঙ্গে দেখা করতে গ্রামেরবাড়ি যাচ্ছি। তার মা তাকে ঢাকা শহর থেকে চলে যেতে বলেছেন। প্রায় একই কারণে বাড়ি ফিরছেন সবাই। কালিহাতী থানার ওসি মো. হাসান আল মামুন জানান, যানজট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে পুলিশ। তবে রাস্তার কাজ শেষ না হওয়া এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল প্লাজায় চাপ থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। অতি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।
বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমে ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট
কামারখন্দ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম সংযোগ মহাসড়কের গোলচত্বর থেকে নলকা পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় বৃহস্পতিবার। এতে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের কড্ডা ও কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকালে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়কের গোলচত্বর, সদর উপজেলার মুলিবাড়ী, কড্ডা, কামারখন্দ উপজেলার ঝাঐল ওভারব্রিজ, বাগবাড়ী ও কোনাবাড়ী এলাকায় যানজট শুরু হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজটের তীব্রতা বেড়ে কামারখন্দ উপজেলার নলকা পর্যন্ত পৌঁছায়। কোনাবাড়ী এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যানবাহনগুলোকে। কামারখন্দ উপজেলার বাগবাড়ী এলাকার হেলাল উদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপার থেকেই যানজট সৃষ্টি হয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাড়ে এসে এর তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। যানজটের কারণে ঘরে ফেরা মানুষগুলো প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দুর্ভোগে পড়েছেন। কামারখন্দ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার শাহীনুর কবীর জানান, বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনের তীব্র চাপ শুরু হয়। ঈদের মতো মানুষ ঘরে ফিরছে। এ কারণে সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট দেখা দেয়। সকাল থেকে যানবাহনের চাপ আরো বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। তবে বৃহস্পতিবার বিকালের দিকে যানজট অনেকটা কমে যায়।
