পৃথিবীর ইতিহাসের সব যুদ্ধের সম্মিলিত মরণযজ্ঞও হার মেনেছিল একটি রোগের কাছে এবং সেটি ছিল গুটিবসন্ত, বলছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার মাইক রায়ান। কিন্তু ভারত সেই মহামারীর মরণরথকে চিরতরে থামিয়ে দিয়েছিল সুপরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য কর্মসূচীর মাধ্যমে যা সমগ্র মানবজাতির জন্য বয়ে এনেছিল এক সঞ্জীবনী সুধা। তিনি আরও বলেন, গুটিবসন্ত এবং পোলিও এর মত নীরব ঘাতক নিশ্চিহ্নকরণের ক্ষেত্রেও বিশ্বের মধ্যে ভারতের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। রোগী চিহ্নিতকরণ, টীকাপ্রদান এবং অন্য যাবতীয় ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের কাজগুলো ভারত করেছে সুনিপুনভাবে। অতীতের সেই স্বর্ণোজ্জ্বল জয়গাঁথা অনুসরণ করে দেশটি এবার করোনা ভাইরাসকে একইভাবে প্রতিরোধ করবে, এমন আশার বানী শুনিয়েছেন ডাক্তার মাইক।
তিন সপ্তাহের যে লকডাউন দেশটিতে আরোপ করা হয়েছে সেটা যদি সফলভাবে প্রয়োগ করা যায় এবং অন্যান্য পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে নেওয়া হয়, তাহলে এই মহামারী রোধ করা অনেকাংশেই সম্ভবপর হবে। আগামী কয়েকদিন বিশ্ব আবারো তাকিয়ে থাকবে কিভাবে ভারত এবার এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে নেয়।
ডাক্তার মাইকের উদ্ধৃতি দিয়ে রাশিয়ান টেলিভিশন চ্যানেলের ওয়েবসাইট rt.com এ প্রকাশিত শিশির উপাধ্যায় ‘কেন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ নয় বরং ভারতই থাকবে কোভিড-১৯ সংকট উত্তরণের অগ্রযাত্রায়’ শীর্ষক লেখায় বিষয়টি লিপিবদ্ধ করেন। গত বছর ডিসেম্বর থেকে চীনের উহান শহর থেকে শুরু হওয়া করোনা ভাইরাসের কারণে সারা বিশ্বে মৃত্যু ঘটেছে বিশ হাজারেরো বেশি মানুষের। এই তাণ্ডব ঘটে গেছে মাত্র তিন মাসের মধ্যে যা উন্নত বিশ্বকেও করেছে বিপর্যস্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারাদেশে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন জীবন বাঁচানোই হবে তার অগ্রাধিকার। যেহেতু এখনো পর্যন্ত এই রোগের কোনো প্রতিষেধক বা ওষুধ উদ্ভাবিত হয় নি, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা বা একে অপরের সান্নিধ্যে না আসাই একমাত্র উপায় করোনা সংকট থেকে উত্তরণের।
“যদি এই একুশ দিনে আপনারা বাড়ি থেকে বের হন এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে না চলেন, তাহলে আপনারা ভারতবর্ষকে আপনারা পিছিয়ে দেবেন একুশবর্ষ,” বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন: মধ্যরাতে গুজবে কেঁপে উঠল মাধবপুর
যদিও ভারতে গত চার সপ্তাহে মৃত্যু হয়েছে ১৬ জন মানুষের (যা ইতালীর সাত হাজারের তুলনায় নগণ্য), যদি এখন এই তৎপরতা না থাকে আগামীর দিনগুলো হতে পারে ভয়াবহ। কেননা ভারতের মত ঘনবসতি দেশে (যেখানে বাস করে এক বিলিয়নের থেকে বেশি মানুষ) এই রোগ একবার মহামারীর আকার ধারণ করলে তার থেকে পরিত্রাণ হবে কষ্টসাধ্য।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা রামানন লক্ষীনারায়ণ বলেছেন, “যদি যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এবং যদি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথা কল্পনায় আনি, তাহলে মোট জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ অর্থাৎ ৮০০ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হতে পারে”
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ডাক্তার মাইক রায়ান এও বলেছেন যে, আগামী এক বছরের মধ্যেও করোনার প্রতিষেধক আবিষ্কারের আশা অত্যন্ত ক্ষীণ।
ইত্তেফাক/এসি
