বদলে গেছে পঞ্চগড়ের হাসপাতালগুলোর চেনা দৃশ্য। এক সময় বহিঃবিভাগ থেকে শুরু করে হাসপাতালগুলোর প্রতিটি অংশে রোগীর ভিড় থাকলেও এখন এর উলটো চিত্র। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কের পরিস্থিতির মধ্যেই পঞ্চগড়ে সন্দেহভাজন এক রোগীর আইসোলেশনে থাকার খবর ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে বহিঃবিভাগ ও অন্তঃবিভাগে রোগীর উপস্থিতিতে ভাটা পড়ে। এ অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালসহ অন্য হাসপাতালগুলোতেও চিকিত্সা নিতে রোগীরা আসছে না বললেই চলে। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাত্র আট জন রোগী বিভিন্ন রোগে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। প্রায় রোগীশূন্য হাসপাতালে চিকিত্সক ও নার্সদের ব্যস্ততা নেই। জরুরি বিভাগে কর্মরতরাই কেবল পিপিই পোশাক পরেছেন। বাকিরা রয়েছেন সাধারণ পোশাকেই। তবে শঙ্কা কাজ করছে রোগী, নার্স ও চিকিত্সক সবার মনেই। অথচ অন্য সময়ে ১০০ শয্যার হাসপাতালটি প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ রোগীতে ঠাসাঠাসি থাকত। বহিঃবিভাগে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াইশ রোগী দেখতে হতো।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. সিরাজউদ্দৌলা পলিন জানান, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে করোনা সন্দেহে একজন রোগী ভর্তি করার পর থেকেই রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ হাসপাতালে রোগী নিয়ে আসছেন না। সর্দি, জ্বর ও কাশি হওয়া রোগীদের হাসপাতালের বাইরে বসেই চিকিত্সকরা চিকিত্সা দিচ্ছেন। অনেকেই বাড়িতে বসে মোবাইল ফোনে চিকিত্সকদের পরামর্শ নিচ্ছেন।
উল্লেখ্য, করোনা সন্দেহে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া ওই যুবকের করোনা ভাইরাসের নেগেটিভ রেজাল্ট এসেছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে আরও ১৮ জনকে। বর্তমান হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩১৯ জন।
