আলোকপাত

কবে তোরা মানুষ হবি?

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২১:৪৫

মৃত্যুদূত হয়ে পৃথিবী কাঁপিয়ে দিচ্ছে করোনা ভাইরাস। দিনকে দিন জীবন প্রদীপ নিভে যাচ্ছে কারো না কারো। দিকে দিকে মানুষ আতঙ্কে দিশেহারা। কখন কীভাবে কার শিয়রে এসে দাঁড়াবে কেউ জানে না।

উহানে চীন কর্তৃপক্ষ স্বীয় বুদ্ধিমত্তায় ত্বরিতগতিতে জীবাণুটিকে ঐ অঞ্চলেই আটকে রেখে ধরাশায়ী করে ফেলেছে। ফলে তারা এখন শঙ্কামুক্ত। শুধু তাই নয়, আক্রান্ত দেশগুলোকে তারা এখন নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছে। আমাদের দেশে শনাক্তকারী কীট পাঠাচ্ছে, প্রয়োজনে তাদের দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আমাদের পাশে এসে দাঁড়াবেন।

এরকম সংগীন অবস্থা যেখানে, সেখানে এখানকার ব্যবসায়ীরা মুনাফার লোভে কি মত্তপ্রায় হয়ে উঠতে পারে? এরা কী মানুষ? গত মৌসুমে পেঁয়াজ মজুত করে পচিয়ে ফেলেছে, তারপর সংকট সৃষ্টি করেছে। এবার জীবন-মৃত্যুর সম্মুখীন যেখানে আপামর মানুষ, সেখানে চাল-ডাল ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে ওরা মুনাফা লুটতে পারে?

নেদারল্যান্ডে স্বেচ্ছাসেবক কর্মীরা প্রতি বাড়ির দরোজার সামনে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রেখে আসছে, যাতে তারা সপ্তাহ খানেক চলতে পারে। বিনামূল্যে স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করছে। এরাও তো মানুষ!

পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি রেশনকার্ডধারীদের বিনামূল্যে চাল-ডাল বিলি করছেন। মাস্ক দিচ্ছেন, তাও বিনামূল্যে। আর এখানে বিনামূল্যে তো দূরে থাক, কীভাবে বিপদগ্রস্তদের আরো বিপদে ফেলবে, সে চেষ্টায়ই ব্যস্ত তারা।

বাংলাদেশ সরকার বারবার হুঁশিয়ার করছে এমনকি জেল-জরিমানাও করছে, তবু এদের লজ্জা হচ্ছে না। প্রতিবার নানা অজুহাতে এরা দেশময় সংকট সৃষ্টি করে। তাই বলে এবারও?

এদের গুদাম থেকে সমস্ত মালামাল তুলে এনে সর্বসাধারণ্যে বিনামূল্যে বিলি করা উচিত। অতি মুনাফার লোভ এদের মনুষ্যত্ব, বিবেক-বুদ্ধি সব শেষ করে দিয়েছে। এরা মানুষ নয়, মানুষ নামের কলঙ্ক।

আবার কিছু মানুষ আছে এ দেশে, তারা শুধু সরকারের সমালোচনা নিয়েই ব্যস্ত, এদেরও মানুষ ভাবা যায় না। সমালোচনা গঠনমূলক হতে হয়। আবার বিপদকালে শত্রুতা ভুলে জনগণের পাশে এসে দাঁড়াতে হয়। নয়তো তারাও মনুষ্যপদবাচ্য হয় না।

দেশে মৃত্যুর বিভীষিকা ধেয়ে আসছে। এর জন্যও দায়ি কিছু লোভী ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মানুষ, যারা সিংহভাগ বিদেশফেরতদেরই নামকাওয়াস্তে পরীক্ষা করে অথবা না করেই ছেড়ে দিয়েছে। তাই এ দেশে করোনার অনুপ্রবেশ ঘটেছে। নয়তো আমার বিশ্বাস, এ দেশে করোনা ঢুকতে পারত না।

কিছু লোক অযথা আতঙ্ক ছড়িয়েও জনমনে ভীতির সঞ্চার করেছে। এ বুদ্ধিটুকু এদের নেই যে অত্যন্ত সংক্রামক এই ভাইরাস মুহূর্তে গ্রাস করতে পারে হাজার হাজার মানুষ!

আশার কথা, সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে এ মহাদুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে, সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, কিছু এলাকা লকডাউন করা হয়েছে।

পরিশেষে স্রষ্টার কাছে আকুল প্রার্থনা, যেন দ্রুত আমরা এই মৃত্যুভয় থেকে মুক্ত হতে পারি । আর ঐ অমানুষগুলোর মধ্যে যেন মনুষ্যত্ব জেগে ওঠে, ওরা যেন মানুষ হয়।

n লেখক :অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক, বাউফল সরকারি কলেজ, বাউফল, পটুয়াখালী