তাকমীনকে হত্যা করে মসজিদে আজান দিয়ে ইমামতি করে খুনি

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০২০, ২২:২৬

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীন হত্যার তিন দিনের মধ্যে মোবাইল কল লিস্টের সূত্র ধরে এ খুনের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে গফরগাঁও থানা পুলিশ। মোবাইল ফোনের কলের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের ধোপাঘাট গ্রামের মফিজ উদ্দিনের ছেলে মাহফুজকে (১৮) গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে আলোচিত এ লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। মাহফুজ উপজেলার পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র। গ্রেফতারকৃত মাহফুজ শুক্রবার বিকালে ময়মনসিংহ জেলা আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইমাম হোসেনের আদালতে                 স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গফরগাঁও থানার এসআই হাবিব এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসামি মাহফুজের জবানবন্দি, নিহত কিশোরী তাকমীনের পরিবার ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আঠারদানা জামে মসজিদের মোয়াজ্জিন ও পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের ছাত্র মো. আশিকুল হকের সাথে পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের কিশোরী কন্যা তাকমীনের (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আশিকুল হক নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আইনাল হকের ছেলে। তাকমীন বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সোমবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে আশিকুল মোবাইল করে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে মসজিদের কাছে তাকমীনকে ডেকে নেয়। এ সময় সেখানে আগে থেকেই ওঁত পেতে ছিল বন্ধু আশিকুল পুলিশের হাতে গ্রেফতারকৃত মাহফুজ ও একই মাদ্রাসার ছাত্র নান্দাইল উপজেলার তারাপাশা গ্রামের সাইদুলের ছেলে আরিফ (১৮)। সেখানে যাওয়ার পর আশিকুল  তাকমীনকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে মাহফুজ তাকমীনের পা ও আরিফ তাকমীনের হাত ও মুখ চেপে ধরে এবং আশিকুল তাকমীনের বুকের ওপর উঠে পা দিয়ে চেপে ধরে তার মাথার পাগড়ি দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আশিকুল, মাহফুজ ও আরিফ তাকমীনের লাশ টেনে-হিঁচড়ে মসজিদের পাশে একটি জামগাছের ডালে ওড়না দিয়ে বেঁধে রাখে। কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেওয়ার সময় হলে মসজিদের মোয়াজ্জিন আশিকুল আজান দেয়। মুসল্লিরা মসজিদে আসলে ফজরের ফরজ নামাজের জামাতে আশিকুল ইমামতি করে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। পরদিন মঙ্গলবার বিকালে তাকমীনের বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করতে আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।