করোনা ভাইরাসের পরীক্ষায় টেস্টিং কিট নিয়ে যখন সারা বিশ্বে সংকট চলছে তখন ভারতের একজন নারী ভাইরোলজিস্ট এটি তৈরিতে শতভাগ সাফল্যের দাবি করেছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে। মিনাল দাখাভে ভোঁসলে নামের ঐ বিজ্ঞানী বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন এবং বলেছিলেন, তিনি তার সন্তান জন্মদানের আগে সেটি করে দেখাবেন। তার ঐ কথা অনুযায়ী সন্তান প্রসবের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই টেস্টিং কিটটি সরবরাহ করেছেন।
বৃহস্পতিবার ঐ করোনা ভাইরাসের টেস্টিং কিট বাজারে পৌঁছেছে। এতে করে আশা করা হচ্ছে করোনার উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে দ্রুত এই রোগটি (কোভিড-১৯) শনাক্ত করা যাবে। মিনাল মহারাষ্ট্রের পুনের মাইল্যাব ডিসকভারির গবেষণা ও উন্নয়ন প্রধান। তিনি একজন ভাইরাস বিশেষজ্ঞও। কীভাবে তিনি ও তার দল এই কিট উত্পাদনে সাফল্য পেলেন, তার বিবরণ তুলে ধরেছেন তিনি। মিনাল বলেন, ‘এমন কিট বানাতে সাধারণত তিন মাস থেকে চার মাস সময় লাগে। কিন্তু আমাদের দল সে রেকর্ড ভঙ্গ করে মাত্র দেড় মাসে তা করতে সক্ষম হয়েছে।’ এই গবেষক বলেন, তিনি অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে এটি করার চেষ্টা করেছেন। কারণ তিনি অন্তঃসত্ত্বা। তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, তার সন্তান প্রসবের আগেই এটি করে দেখাবেন এবং বাস্তবে সেটি তিনি করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, গত ফ্রেব্রুয়ারিতে তারা এই কাজ শুরু করেছেন। আর তারা তা কাঙ্ক্ষিত সময়েই তা করতে পেরেছেন।
সাফল্যের বিষয়ে এই গবেষক বলেন, ‘একটা জরুরি পরিস্থিতি এলো। এই সময়ে আমি দেশের জন্য কিছু করার চ্যালেঞ্জটা নিলাম। এই সাফল্য পেতে আমাদের ১০ জনের দলটি কঠোর পরিশ্রম করেছে।’ ১৮ মার্চ মিনাল কিটটি পর্যালোচনা করার জন্য ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে (এনআইভি) জমা দেন। পরের দিন খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন এবং ওষুধ নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে বাণিজ্যিক অনুমোদনের জন্য লিখিত প্রস্তাব পাঠান তিনি। পরে ঐ দিন সন্ধ্যায় তিনি হাসপাতালে যান। সেখানে অস্ত্রোপচারে তার কন্যা সন্তান হয়। যে কিটের জন্য তার এই পরিশ্রম সেই কিট এখন দেশটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে পৌঁছে গেছে। প্রথম চালানে প্রতিষ্ঠানটি পুনে, মুম্বাই, দিল্লি, গোয়া ও বেঙ্গালুরুতে ১৫০টি কিট পাঠিয়েছে। মিনাল ভোঁসলে বলেন, আমদানি করা কিটগুলো দিয়ে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষা করে ফল পেতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা লাগছে। তাদের কিট দিয়ে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ফল পাওয়া সম্ভব।
মাই ল্যাবের চিকিত্সা বিষয়ক পরিচালক ড. গৌতম ওয়াংহেড শুক্রবার বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠান এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং অন্যান্য অসুখের পরীক্ষার জন্য কিট বানিয়ে থাকে। তারা এক সপ্তাহে ১ লাখ কিট সরবরাহ করতে পারবে। প্রয়োজন হলে সপ্তাহে ২ লাখ কিট দেওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে। তিনি আরো জানান, তাদের এই ল্যাবের কিট দিয়ে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব। একেকটি কিটের দাম পড়বে ১ হাজার ২০০ রুপি। ভারত এমন একেকটি কিট বিদেশ থেকে ৪ হাজার ৫০০ রুপি দিয়ে কিনেছে। সেই হিসাবে মাইল্যাবের কিট সাশ্রয়ী। তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের উত্পাদন ইউনিট এ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করছি আমাদের পরবর্তী চালান সোমবার প্রেরণ করতে পারব।’
