গত কয়েক দশক ধরেই দেশের ক্রিকেটে দক্ষিণাঞ্চল তথা খুলনা অঞ্চলের দাপট চলছে। একের পর এক তারকা ক্রিকেটার উঠে আসছে এই অঞ্চল থেকে। জাতীয় দলে তাদেরই আধিক্য। ঘরোয়া ক্রিকেটেও যার ছাপ স্পষ্ট। জাতীয় ক্রিকেট লিগের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় প্রথম শ্রেণির লিগ বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে দক্ষিণাঞ্চল। ফ্র্যাঞ্চাইজ ভিত্তিক বিসিএলে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে প্রাইম ব্যাংক দক্ষিণাঞ্চল। গতকাল বিসিবি উত্তরাঞ্চলকে ৯ উইকেটে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে আব্দুর রাজ্জাকের দল।
বিসিএলে এটি তাদের চতুর্থ শিরোপা। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুম, ২০১৪-১৫ মৌসুমেও দক্ষিণাঞ্চল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। তবে এবার বিসিএলে দল গঠন হয়েছিল নিলামের মাধ্যমে। প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল তৈরি করতে হয়েছে সবাইকে। আগের মৌসুমের ছয়জন ক্রিকেটার ধরে রাখলেও পছন্দের ক্রিকেটার হারাতে হয়েছে সব দলকেই। তারপরও জমাট ভারসাম্য ছিল দক্ষিণাঞ্চলে। ক্রিকেটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে বিসিএল ট্রফি ধরে রেখেছে দলটি।
গত তিন আসরে দুবার চ্যাম্পিয়ন, একবার রানার্সআপ। দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক আব্দুর রাজ্জাকের মতে এটি অসাধারণ পারফরম্যান্স। গতকাল শিরোপা জয়ের পর বাঁহাতি এই স্পিনার বলেছেন, ‘অবশ্যই ভালো অনুভূতি এটা, চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করা। আর আমরা গত বছরও চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। তার আগের বছর রানার্সআপ ছিলাম। তার আগের বছরও চ্যাম্পিয়ন ছিলাম। চার বছরে তিনটা, দুটি চ্যাম্পিয়নশিপ, একটি রানার্সআপ আমাদের জন্য আসলে দল হিসেবে আমি মনে করি অসাধারণ পারফরম্যান্স। সবমিলিয়ে আমরা খুব খুশি।’
ফ্র্যাঞ্চাইজ ভিত্তিক বিসিএলে তিনটি দলের মালিকানা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের কাছে। দলগত পারফরম্যান্সে নিজেদের প্রতিষ্ঠান প্রাইম ব্যাংকের নাম বারবার শীর্ষে তুলে ধরতে পেরে সন্তুষ্ট রাজ্জাক। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় যে, আমাদের এই খেলাগুলো তো ফ্র্যাঞ্চাইজ ভিত্তিক ওয়ালটন, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক এই তিনটা প্রতিষ্ঠান আসছে, আমি নিশ্চিত যে টুর্নামেন্ট থেকে ওনাদের যে অর্জন করেছে বা করতে চায় আমি আশা করি সেটা পূর্ণ হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের দলটা। কারণ যখনই শিরোনামে থাকে নামটা, প্রতিষ্ঠানগুলো তো এটাই চায়।’ প্লেয়ার্স ড্রাফটের কারণে ভালো সুবিধা পেয়েছে দক্ষিণাঞ্চল। দলটির পেস বোলিংয়ের ঘাটতি পূরণ হয়েছে বলেই মনে করেন অধিনায়ক রাজ্জাক। শফিউল ইসলাম, কামরুল ইসলাম রাব্বিরা খেলেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে।
বিসিএলে এবার পারফরমারদের তালিকায় শীর্ষে এই দলের ক্রিকেটাররা। ৬ ম্যাচে ৩৪ উইকেট নিয়ে বোলারদের শীর্ষে। ২৯ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উত্তরাঞ্চলের সানজামুল ইসলাম। তারপরই আবার ২৩ উইকেট পাওয়া দক্ষিণাঞ্চলের মেহেদী হাসান। ব্যাটিংয়ে ৬ ম্যাচে দুটি সেঞ্চুরিসহ ৬৫৮ রান করে শীর্ষে একই দলের এনামুল হক বিজয়। পরের দুটি স্থানে উত্তরাঞ্চলের নাঈম ইসলাম (৫২২ রান) ও জুনায়েদ সিদ্দিকী (৫০০ রান)।
রোল অব অনার
মৌসুম চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ
২০১২-১৩ মধ্যাঞ্চল উত্তরাঞ্চল
২০১৩-১৪ দক্ষিণাঞ্চল উত্তরাঞ্চল
২০১৪-১৫ দক্ষিণাঞ্চল পূর্বাঞ্চল
২০১৫-১৬ মধ্যাঞ্চল পূর্বাঞ্চল
২০১৬-১৭ উত্তরাঞ্চল দক্ষিণাঞ্চল
২০১৭-১৮ দক্ষিণাঞ্চল উত্তরাঞ্চল
২০১৮-১৯ দক্ষিণাঞ্চল পূর্বাঞ্চল
