করোনায় কর্মহীন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমজীবী

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১৪:৩৩

তাড়াশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কয়েক হাজার শ্রমজীবী মানুষ প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। দিন আনি দিন খাই অবস্থার মধ্যে থাকা এসব নারী-পুরুষের এখন খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে।

উপজেলা উরাঁও ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, তাড়াশে কমপক্ষে ২১ হাজার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর লোকের বসবাস। এদের প্রায় সবাই ভূমিহীন। তবে জাতিগতভাবে তারা কঠোর পরিশ্রমী। কাজ থাকলে তাদের দু’মুঠো ভাতের অভাব হয় না।

সরেজমিনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পল্লী হিসাবে ক্ষ্যাত গুল্টা, গুড়পিপুল, খোদবাড়ী ও মাধাইনগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, করোনার আতঙ্ক অনেকটা গৃহবন্ধী সব শ্রমজীবী মানুষ। কাজ করতে না পেরে তারা অলস সময় পাড় করছেন।

কৃষি শ্রমিক অনিমা উরাঁও, প্যনতি উরাঁও, কমলা উরাঁও, স্বারতী উরাঁও, রঞ্জনা রানী, স্বপন এক্কা, বাদল এক্কা, মিলন কুজুর, শিপন কুজুর বলেন, তাদের বাড়িতে দুদিনের খাবারও মজুদ থাকে না। প্রতিদিন কাজের শেষে মালিকের দেওয়া মজুরির টাকায় তাদের প্রতিদিনের খাবার জোটে। এই সময়টাতে মাঠে অনেক কাজ থাকলেও করোনাভাইরাস আতঙ্কে জমির মালিকরা তাদের কাজে নিচ্ছেন না। বাধ্য হয়ে তারা তুলনামূলক কম দামে আগাম শ্রম বিক্রি করে দিচ্ছেন। ধার-দেনায়ও জড়িয়ে পড়েছেন অনেকে।

জমির মালিক ছাত্তার প্রামানিক, দুদু মিঞা, এসহাক আলী, হান্নান প্রামানিক, এনছাব আলী বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শ্রমীকরা সাধারণত সব ধরণের কাজই দলগতভাবে কাজ করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলা তাদের জন্য মুশকিল। তাই ঐসব শ্রমিকদের কোন কাজে লাগাতে পারছেন না। 
এদিকে করোনা প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কর্মহীন শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রতিদিন দুমুঠো ডাল ভাতের সহায়তা চেয়েছেন উপজেলা উরাঁও ফাউন্ডেশনের সভাপতি বিরেন্দ্র নাথ বাঁরো।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, কর্মহীন অতি দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়ার জন্য তিনি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা চেয়েছেন। একই সাথে তিনি, শ্রমজীবী মানুষদের নিরাপদ দুরত্ব বজায় রেখে কাজ করারও পরামর্শ দেন।

ইত্তেফাক/আরকেজি