হাসপাতালে যুবকের মৃত্যু, চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ স্বজনের

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ১৮:৪৩

ঢাকা থেকে নওগাঁর রাণীনগরে আসা এক যুবক (নামপ্রকাশ করা হলো না) জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে মারা গেছেন। শনিবার দিনভর তিন হাসপাতাল ঘুরে রাত ৮টার দিকে রামেক হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, করোনা ভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন তিনি। রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ চিকিৎসকরা তার মৃত্যুর কারণ ‘মেনিনজাইটিস’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘ওই যুবক করোনা ভাইরাসে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। তিনি করোনা ভাইরাসে মারা যাননি, মৃত্যুর সনদে চিকিৎসক তা নিশ্চিত করেছেন। যেহেতু মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন, তাই লাশ দাফনে কোনো সমস্যা নেই।’

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করতেন। গত শনিবার সকালে প্রচণ্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ্য অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগাঁয় গ্রামের বাড়িতে আসেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও গ্রামের কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে বাধা দেন। এ কারণে তাকে প্রথমে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাকে ফিরিয়ে দেন। এরপর তাকে ‘ভেটি কমিউনিটি ক্লিনিকে’র বারান্দায় ফেলে রাখা হয়। পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করা হলে তিনি ওই যুবককে রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। সেখান থেকে তাকে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তিন হাসপাতালে ঘুরে চিকিৎসা না পেয়ে রামেকে শনিবার রাতে মারা যান তিনি।

আরও পড়ুন: ২৫ হাজার দিনমজুরের দায়িত্বে সালমান, অক্ষয় দিলেন ২৫ কোটি টাকা

ওই যুবকের বাবা বলেন, ছেলেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ডাক্তাররা চিকিৎসা না দিয়েই রাজশাহী নিয়ে যাওয়ার জন্য হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেন। এরপর বিকেলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসকরা। সেগুলো কিনে দিয়েও ছেলের জ্বর কমে নি। এরপর কোনো চিকিৎসক ছেলের আশপাশেও আসেননি। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে অবশেষে ছেলে রাত ৮টার দিকে মারা যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, জ্বর-সর্দির কারণে তার পরিবারকে বলা হয়েছিল চিকিৎসকের প্রতিবেদন নিয়ে গ্রামে আসতে। প্রতিবেদনে কোনো সমস্যা না থাকলে গ্রামে আসবে, আর সমস্যা থাকলে আসার দরকার নেই। গ্রামবাসীর কথা ভেবেই এমন সীদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। রাণীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খাঁন বলেন, তার শরীরে ১শ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে জ্বর ছিলো। তাকে হাসপাতালে অবচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হয়। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ইত্তেফাক/বিএএফ