পঞ্চগড়ে হাটবাজার বন্ধ হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২১:২২

পঞ্চগড়ে সেনা টহল, পুলিশ টহল ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রচার প্রচারণায় জেলা শহরসহ পাঁচ উপজেলার সড়ক মহাসড়ক, হাটবাজারে লোকসমাগম কমেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষজন বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে, কাজ ছাড়া অযথা ঘোরাফেরা আর আড্ডা না দিতে আহ্বান করছেন সেনা সদস্যরা। জেলা শহরসহ গ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মাইকিং করে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। ঘরে থাকা দরিদ্র অসহায় মানুষদের বাড়িতে সরকারের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছে জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে সরকারি নির্দেশনা মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরতদের উপহার তুলে দিচ্ছেন জেলা পুলিশ।

গত ২৭ মার্চ থেকে হাটবাজার-রাস্তাঘাটে অযথা ঘোরাফেরা বা আড্ডা না দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেনাবাহিনী। সেনা সদস্যরা জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড়সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে জনসাধারণকে এসব বিষয়ে সচেতন করছে। সেনা টহলের পর জেলার বিভিন্ন এলাকার সড়ক মহাসড়কসহ হাটবাজারে লোকসমাগম কমছে। বিকাল ৫টার মধ্যে হাটবাজার দোকানপাট বন্ধ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে খাদ্যসামগ্রী, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় দোকান খোলা রাখা হচ্ছে।  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘরে বন্দি জেলার নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে সরকারি সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। খাদ্যসামগ্রী হিসাবে চাল ১০ কেজি, ডাল এক কেজি, আলু পাঁচ কেজি, তেল এক লিটার ও একটি করে সাবান দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত জেলার ১ হাজার পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার জেলা সদরে চিনিকল গেট ও অডিটরিয়াম চত্বরে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন দুস্থ অসহায় মানুষদের মাঝে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। এ সময় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম, পৌর মেয়র তৌহিদুল ইসলাম ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী উপস্থিত ছিলেন।

পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন জানান, সরকারিভাবে ১০০ মেট্রিক টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ এসেছে। সেই বরাদ্দ থেকে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ দরিদ্র অসহায় মানুষের বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছি। অন্যদিকে সরকারি নির্দেশনা মেনে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরতদের উপহার তুলে দিচ্ছেন জেলা পুলিশ। কোয়ারেন্টাইনে থাকা বিদেশফেরতদের উত্সাহ জোগাতেই পুলিশের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়। ক্রমান্বয়ে প্রতিদিন পুলিশ কর্মকর্তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে তাদের উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন। হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রতি ব্যক্তির জন্য ‘বাসায় থাকুন, সুস্থ থাকুন কোয়ারেন্টাইন মেনে চলার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ’ লেখা সম্বলিত একটি করে ব্যাগ তুলে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি ব্যাগে একটি সাবান, এক প্যাকেট ডিটারজেন্ট পাউডার, একটি টুথব্রাশ, একটি টুথপেস্ট, একটি হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও একটি টয়লেট টিস্যু পেপার রয়েছে। পুলিশের আন্তরিকতা ও উপহার পেয়ে খুশি হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরাও। পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, পঞ্চগড় জেলায় ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিদেশ থেকে ফিরেছে ৯৭২ জন। এদের মধ্যে ভারতীয় ৯০৬ জন। বাকিরা এসেছেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, কাতার, সৌদি আরব, দুবাই, সুদান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রিস, উগান্ডা ও চীন থেকে। এদের মধ্যে ৮০৮ জনের ঠিকানা ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি ১৬৪ জনের ঠিকানা খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তাদের কোয়ারেন্টাইনের সময় পার হয়ে গেছে। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছে ৩২৪ জন। করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে শহরে জীবাণুনাশক স্প্রে ছিটানো কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পঞ্চগড় পৌরসভা, জেলা প্রশাসনের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস এ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।