মাইক কাজী। তিনি কাজী আইটি সেন্টার লি. এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও। সারাদেশে সম্প্রতির ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পের মাধ্যমে নতুন আইটি কর্মী খুঁজে নেয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হয়ে তার সঙ্গে। তিনি বলেন,‘আমরা ঢাকাসহ সারাদেশে ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পের আয়োজন করেছি। এর মাধ্যমে ৬ হাজার শিক্ষার্থী সিভি জমা দিয়েছিল। আমরা এখান থেকে যাচাই বাছাই শেষে ১৭৪ জনকে কাজী আইটি সেন্টার লি. এর কর্মী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছি।’
নতুন কর্মী নিয়োগের পরবর্তীতে তাদের বেতনসীমা নিয়ে মাইক কাজী বলেন, ‘শুরু থেকেই নিয়োগপ্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করে দিয়েছি। প্রত্যেকে সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন এখান থেকে। এর মধ্যে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মতো স্বাভাবিক বোনাস তো রয়েছেই সঙ্গে থাকছে প্রতিমাসের কর্মদক্ষতার বোনাস।’
একজন ফ্রেশার থেকে একজন দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজী আইটি কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে? এমন প্রশ্নের জবাবে মাইক কাজী বলেন,‘আমরা যখন একজন ফ্রেশার নিয়োগ দিয়ে থাকি ঠিক কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করে থাকি। আমাদের এখানে বিদেশি ও দক্ষ ট্রেনার রয়েছে। যারা তাদের দক্ষতা দিয়ে ফ্রেশারদের দুই মাসের মধ্যে কর্ম উপযোগী করে তুলে।’
ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পের মাধ্যমে আপনারা যেভাবে ফ্রেশারদের বেছে নিচ্ছেন আগামীতে কি এই ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন থাকবে? এই প্রসঙ্গে মাইক কাজী বলেন,‘ আমরা যে সিস্টেম চালু করেছে তা আগামীতে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি আমরা ১৭৪ জনকে চাকরি দিয়েছি। আগামী ৫ বছরে অন্তত ৫শ’ জনকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
একজন শিক্ষার্থীকে কোন সময় থেকে কর্মপযোগী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে প্রস্তুতিটা শুরু করা প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন ? এই প্রসঙ্গে মাইক কাজী বলেন,‘স্কুল জীবন থেকেই এই প্রস্তুটা সকল শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন। ইদানিং দেখা যায় স্কুল শিক্ষার্থীরা অযথাই বিভিন্ন ভিডিও দেখছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় দিচ্ছি। তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ইউটিউবে বিভিন্ন রকম টিউটেরিয়াল পাওয়া যায়। তোমরা সময় পেলে বিভিন্ন টিউটেরিয়ল দেখতে পারো। এতে তোমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি দক্ষতাও অর্জন হবে। প্রাথমিক শিক্ষার জন্য ইউটিউব এর টিউটেরিয়াল বেশ কাজে আসে।’
ক্যারিয়ার বুটক্যাম্পে ৬ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৭৪ জনকে আপনার প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ দিয়েছেন। বাকি যারা আছে তারা কি সম্পূর্ণ অযোগ্য? এমন প্রশ্নের জবাবে মাইক কাজী বলেন,‘ তারা সম্পূর্ণ অযোগ্য হবে কেনো? আমরা যে বিষয়গুলো তাদের মধ্যে খুঁজেছি তা পাইনি। হয়তো তারা অন্য খাতে চাকরির উপযোগী। তাদের আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা তো আইটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ক্যারিয়ার বুটক্যাম্প করেছি। যখন অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও আমাদের মতো বুটক্যাম্প করবে তখন হয়তো অন্য ক্যাটাগরিতে তাদের চাকরি হয়ে যাবে। আমাদের মতো অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ক্যারিয়ার বুটক্যাম্প করা প্রয়োজন।’ তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বড় বড় বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক। দেশের স্বার্থে, কোম্পানির স্বার্থে ও দেশে দক্ষ লোকবল তৈরির লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন কোম্পানিগুলোর দূরত্ব কমাতে হবে।’
কর্মমুখী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্মমুখী শিক্ষা দিচ্ছে, সনদ দিচ্ছে। তাদেরকে হাতে কলকে কাজ শেখানোর বিষয়ে অনেক পিছিয়ে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যদি তাদের দূরত্ব কমে যায় তাহলে শিক্ষা জীবন থেকেই একজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে হাতে কলমে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে।’
