বরিশালে দুই সাংবাদিককে লাঠিপেটা তিন পুলিশ সদস্য ক্লোজড

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২১:২৮

করোনা সংক্রমণ এড়াতে সরকারি প্রচার-প্রচারণার ছবি তুলতে গিয়ে আঞ্চলিক পত্রিকার দুই ফটোসাংবাদিককে পেটানোর ঘটনায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ির তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। রবিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন বন্দর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার। তিনি জানান, ঐ তিন পুলিশ সদস্য বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ির দায়িত্বে ছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর তাদেরকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন নায়েক মহসিন, কনস্টেবল কাওসার হোসেন এবং জাহিদুল ইসলাম।

শুক্রবার বিকালে নগরীর দপদপিয়া সেতুর ঢালে বরিশাল সদর উপজেলা ইউএনও মোশারফ হোসেনের সামনে দুই ফটোসাংবাদিককে বেধড়ক লাঠিপেঠা করে পুলিশের একাধিক সদস্য। আহত সাংবাদকর্মীরা একাধিকবার তাদের আইডি কার্ড ও ক্যামেরা দেখালেও নিস্তার মেলেনি পুলিশের লাঠিপেটা থেকে। আহতরা হলেন-বরিশালের আঞ্চলিক পত্রিকার ফটোসাংবাদিক সাফিন আহমেদ রাতুল ও নাছির উদ্দিন। হামলার শিকার রাতুল জানান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন গত শুক্রবার সন্ধ্যায় জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যান। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছার পর মাস্ক পরিহিত এক পুলিশ সদস্য তাদের পরিচয় জানতে চান। তারা নিজেদের আঞ্চলিক দুইটি দৈনিকের ফটোসাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এরপরও ঐ পুলিশ সদস্য তাদের বেদম লাঠিপেটা করেন। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন জানান, তার সঙ্গে পুলিশ ছিল। কিন্তু তিনি কাউকে পেটাতে নির্দেশ দেননি। মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন খান সাংবাদিকদের বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনগণের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে তাদের বুঝিয়ে নিজ নিজ ঘরে রাখতে সব পুলিশ সদস্যকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুধু সাংবাদিক নয়, সাধারণ জনগণের সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার কাম্য নয়। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।