মৃত ও আক্রান্ত রাজনীতিক
এবং তারকারা
হাঙ্গেরিতে নিযুক্ত ব্রিটেনের উপরাষ্ট্রদূত স্টিভেন ডিক, শীর্ষ মার্কিন শেফ মাস্টার ফ্লয়েড কার্ডোজ এবং বিখ্যাত আফ্রো-জাজ লিজেন্ড মানু ডিবাঙ্গো করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও তার স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্পেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী কারমেন কালভো, ব্রিটিশ পিন্স চার্লস, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রভাবশালী চিফ অব স্টাফ আব্বে কায়ারি, মার্কিন সিনেটর র্যান্ড পল, মনাকোর প্রিন্স আলবার্ট (দ্বিতীয়), ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রেক্সিট সমঝোতার দায়িত্বে থাকা মাইকেল বার্নিয়ের, ব্রাজিলের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীসহ দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাসহ আরো প্রায় এক ডজন রাজনীতিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তারকাদের মধ্যে হলিউড তারকা টম হ্যাঙ্কস ও তার স্ত্রী রিটা উইলসন, চিলির বিখ্যাত লেখক লুইস সেপুলভিদা, ব্রিটিশ অভিনেতা ইদ্রিস এলবাসহ আরো কয়েক জন তারকার শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন বিখ্যাত খেলোয়াড়ও করোনায় আক্রান্ত।
শিফারুল শেখ
করোনা ভাইরাস থেকে উদ্ভূত কোভিড-১৯ রোগ নিয়ে সারা বিশ্বে তোলপাড়। পরাশক্তিগুলোর বিরোধ যেখানে কখনোই বিশ্বকে অবরুদ্ধ করতে পারেনি, সেখানে সামান্য একটা ভাইরাসে কবলে পড়ে পৃথিবী নামের এই গ্রহের বাসিন্দারা নাকাল হয়ে পড়েছেন। অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষতির মুখে সবাই। এই ক্ষতি কবে পোষাতে পারবেন সবাই তাই নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিজ্ঞানী আর গবেষকরা ব্যস্ত এর প্রতিষেধক তৈরি নিয়ে। কিন্তু এরই মধ্যে করোনা ভাইরাস কাউকে করুণ না করেই দুনিয়াটাকে মৃত্যুপুরীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত বিশ্বে প্রায় সাত লাখ মানুষ ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। মারা গেছেন প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ। প্রতি ঘণ্টায়ই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বাড়ছে। ভাইরাস নিয়ে বিশ্বের পপুলিস্ট নেতারাও চাপে পড়েছেন।
মৃত্যুপুরীর দিকে বিশ্ব : চীনের উহানে প্রথম আবির্ভাব ঘটেছিল ক্রমেই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা করোনা ভাইরাস। সেই উহান এখন স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। বাকি বিশ্বে টালমাটাল অবস্থা। হঠাত্ হানা দেওয়া এই ভাইরাস মোকাবিলায় বিশ্বের কোনো দেশেরই তেমন প্রস্তুতি নেই। এমনকি অত্যাধুনিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো করোনার হানায় যেন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দেশগুলোর সরকারও হতভম্ব হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে লকডাউন ঘোষণা করতে হচ্ছে। পৃথিবীর প্রায় অর্ধেক মানুষ এখন লকডাউনের কবলে পড়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্বের ১৯৯টি দেশ ও অঞ্চল করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এছাড়া দুটি যুদ্ধজাহাজও ভাইরাসের কবলে। শতাধিক দেশে কেবল আক্রান্তই হয়নি, অকালে হাজার হাজার মানুষের প্রাণ গেছে। অত্যাধুনিক বিশ্বের দাবিদার যুক্তরাষ্ট্রও কোভিড-১৯ এ মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে। দেশটি বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশের কাছে চিকিত্সা সরঞ্জামের আবেদন করেছেন। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যা যেন বুলেট ট্রেনের গতিতে চলছে। বিজ্ঞান আর গবেষণার দেশ হিসেবে পরিচিত যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে এক লাখ ২১ হাজারের বেশি। মারা গেছেন ২ হাজার ২৪ জন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক আলী ওয়াটকিনস জানিয়েছেন, নিউ ইয়র্কে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। টুইট টাওয়ারে নাইন ইলেভেন হামলার পর যেমন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বেজেছিল ঠিক তেমনি ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। ৯১১ নম্বরে কল আসছে কেবল অ্যাম্বুলেন্সের জন্য। জ্বর আর কাশি হলেই অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হচ্ছে। ইতালি আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় ও মৃতের দিক থেকে প্রথম স্থানে আছে। দেশটিতে আক্রান্ত প্রায় এক লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তে চীন তৃতীয় (৮১ হাজার ৩৯৪ জন) এবং মৃতের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে (৩ হাজার ২৯৫ জন)।
ইতালি আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় ও মৃতের দিক থেকে প্রথম স্থানে আছে। দেশটিতে আক্রান্ত প্রায় এক লাখ এবং মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। আক্রান্তে চীন তৃতীয় (৮১ হাজার ৪৩৯ জন) এবং মৃতের দিক থেকে চতুর্থ স্থানে (প্রায় সাড়ে ৩ হাজার)।
স্পেন করোনায় মৃত্যুর দিক থেকে তৃতীয় এবং আক্রান্তে চতুর্থ স্থান দখল করে আছে। দেশটিতে প্রায় ৭৯ হাজার আক্রান্ত এবং সাড়ে ছয় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জার্মানিতে আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৫৮ হাজার এবং মৃত্যু হয়েছে সাড়ে চারশ’র বেশি নাগরিকের। এছাড়া আক্রান্ত ও মৃত্যুর তালিকায় আছে ফ্রান্স (আক্রান্ত সাড়ে ৩৭ হাজারের বেশি, মৃত্যু প্রায় আড়াই হাজার), ইরান (আক্রান্ত সাড়ে ৩৯ হাজার, মৃত্যু আড়াই হাজারের বেশি), ব্রিটেন (আক্রান্ত প্রায় ২০ হাজার, মৃত্যু প্রায় দেড় হাজার), সুইজারল্যান্ডে (আক্রান্ত সাড়ে ১৪ হাজারের বেশি, মৃত্যু প্রায় ৩শ’), নেদারল্যান্ডসে (আক্রান্ত প্রায় ১১ হাজার, মৃত্যু প্রায় ৮শ’), দক্ষিণ কোরিয়া (আক্রান্ত সাড়ে ৯ হাজারের বেশি, মৃত্যু দেড় শতাধিক), বেলজিয়াম (আক্রান্ত প্রায় ১১ হাজার, মৃত্যু প্রায় সাড়ে ৪শ’), তুরস্ক (আক্রান্ত সাড়ে ৭ হাজার, মৃত্যু ১১০), কানাডা (আক্রান্ত সাড়ে ৫ হাজারের বেশি, মৃত্যু ৬৫), পর্তুগাল (আক্রান্ত প্রায় ৬ হাজার, মৃত্যু ১১৯), ব্রাজিল (আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার, মৃত্যু ১১৭), অস্ট্রেলিয়া (আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার, মৃত্যু ১৬), ইসরাইল (আক্রান্ত প্রায় ৪ হাজার, মৃত্যু ১৪), সুইডেন (আক্রান্ত ৩ হাজার ৭শ’, মৃত্যু ১১০), মালয়েশিয়া (আক্রান্ত প্রায় আড়াই হাজার, মৃত্যু ৩৪), জাপান (আক্রান্ত প্রায় ১৭শ’ মৃত্যু ৫২), ভারত (আক্রান্ত প্রায় ১ হাজার, মৃত্যু ২৫), পাকিস্তান (আক্রান্ত দেড় হাজারের বেশি, মৃত্যু ১৪), রাশিয়া (আক্রান্ত দেড় হাজারের বেশি, মৃত্যু ৮), সৌদি আরব (আক্রান্ত ১৩শ’র বেশি, মৃত্যু ৮)।
পপুলিস্ট নেতারা কোণঠাসা : প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বছরে অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরে সাফল্যের আশায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রথমে করোনা সংকট লঘু করে দেখিয়ে চাপের মুখে কড়া পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে বৈজ্ঞানিক ও বিশেষজ্ঞদের অবজ্ঞা করে ইস্টারের আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে চান তিনি। ব্রেক্সিট কার্যকর করে জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। করোনা সংকট তার ঘুম ছুটিয়ে দিয়েছে। ভারতে করোনা সংকট এখনো মারাত্মক আকার ধারণ করেনি। কিন্তু সমালোচকরা বলছেন যে, লকডাউন ঘোষণা ও জনমোহিনী ভাষণ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সংক্রমণ কমাতে যথেষ্ট কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ।
