বিশ্ব যেন থমকে গেছে। মহামারি করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে বিশ্বের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ এখন অবরুদ্ধ বা লকডাউন অবস্থায়। একের পর এক পিছিয়ে যাচ্ছে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও অনুষ্ঠান। এই করোনা ভাইরাসের কারণে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চলতি বছরের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও। ইতিমধ্যে থমকে গেছে ডেমোক্র্যাট দলের প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের দৌড়।
গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনে এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম শুরু হলেও এখন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সবাইকে ছাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার। আক্রান্তের সংখ্যার পাশাপাশি মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে দেশটিতে। তাই একের পর অঙ্গরাজ্য লকডাউন হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য মানুষের কোনো সভা-সমাবেশে জড়ো হওয়ার সুযোগ এখন খুবই সীমিত।
এ কারণে গত প্রায় এক মাসে যেসব রাজ্যে ডেমোক্র্যাট দলের প্রাইমারি ও ককাস ভোট হওয়ার কথা ছিল, তা পিছিয়ে জুনে নেওয়া হয়েছে। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এখনো দৌড়ে রয়েছেন। স্যান্ডার্সের ওপর সমর্থকদের চাপ রয়েছে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার। ফলে শেষ পর্যন্ত ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী কে হবেন তা নিয়ে অনিশ্চিয়তা রয়ে গেছে। কিন্তু এই নির্বাচনে পুনরায় জয়ী হতে লড়বেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী তিনিই হচ্ছেন সেটা নিশ্চিত।
এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়ন ও নির্বাচন নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে। সেসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছে ফরচুন ম্যাগাজিন। করোনা ভাইরাসের কারণে কি প্রাইমারি ভোট স্থগিত হবে? এই প্রশ্নের জবাবে বলা হচ্ছে, বেশ কিছু রাজ্যের প্রাইমারি জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আরো কিছু রাজ্যে প্রাইমারি পিছিয়ে যাবে। এ কারণে প্রাইমারি ভোটের ‘সিজন’ দীর্ঘ হবে। এমনকি শেষ পর্যন্ত এই প্রাইমারি ও ককাস ভোট সরাসরি দলীয় কনভেনশনে গড়াতে পারে।
ভোটারদের কি সরাসরি প্রাইমারি ভোট দিতে হবে, নাকি তারা মেইলে দিতে পারবেন? এটা নিয়ে নানা কথা চলছে। ফরচুন ম্যাগাজিন বলছে, হঠাত্ করে পুরো ব্যবস্থা বদলে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। ভোটাররা কীভাবে ভোট দেবেন সেক্ষেত্রে প্রতি রাজ্যে আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে। কিছু রাজ্যে মেইলে ভোট দেওয়া যায়। কিন্তু অনেক রাজ্যে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হয়। এ কারণে মেইলে ভোট দিতে হলে কিছু রাজ্যকে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। তবে আসছে দিনগুলোতে কিছু পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি ওয়াইয়োমিং রাজ্য জানিয়েছে, ৪ এপ্রিল মেইলের মাধ্যমে ককাসের ভোট হবে।
যদি করোনার কারণে পরিস্থিতি খারাপ হয়, দেশের মানুষ কোয়ারেন্টাইনে চলে যায়, সেক্ষেত্রে ডেমোক্র্যাটরা কী তাদের প্রার্থী বেছে নিতে পারে? ফরচুন বলছে, হ্যাঁ। টেকনিক্যালি এটি সম্ভব হবে। ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) চাইলে বাকি সব প্রাইমারি ভোট বাতিল করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত ডেলিগেটরা তাদের ডিস্ট্রিক্টের ভোটে জয়ী প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর যেসব রাজ্যে প্রাইমারি হয়নি, সেখানকার অপ্রতিশ্রুত ডেলিগেট ও সুপার ডেলিগেটরা ফ্রি এজেন্ট হিসেবে ভোট দিতে পারবেন। দলীয় কনভেনশনের আগে যদি প্রার্থীরা প্রয়োজনীয় ১৯৯১ ডেলিগেট জোগাড় করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে অপ্রতিশ্রুত ডেলিগেট ও সুপার ডেলিগেটরা প্রার্থী বেছে নিতে ভোট দেবেন। তাদের হাতেই ভাগ্য নির্ধারণ করবে প্রত্যাশীদের।
আগামী জুনে উইসকনসিনে ডেমোক্র্যাট দলের কনভেনশন হওয়ার কথা রয়েছে। আর আগস্টের শেষ দিকে নর্থ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান দলের কনভেনশন হবে। এখন পর্যন্ত কোনো দলই তাদের কনভেশন স্থগিত করেনি। ডিএনসির নিয়ম অনুযায়ী ডেলিগেটদের উপস্থিত থেকে মনোনয়নের জন্য ভোট দিতে হবে। তবে কনভেনশনের স্ট্যান্ডিং কমিটি এই নিয়ম বদলাতে পারে। সেক্ষেত্রে ডেলিগেটদের অনলাইনে ভোট দিতে বলা হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রধান দুই প্রার্থীর বিতর্ক। করোনা ভাইরাসের কারণে এই বিতর্ক কেমন হবে? ফরচুন বলছে, সেক্ষেত্রে প্রধান দুই প্রার্থী দর্শকশূন্য স্টুডিওতে বিতর্কে অংশ নেবেন। করোনার কারণে ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রচারণায় পরিবর্তন এসেছে। ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী জো বাইডেন ও বার্নি স্যান্ডার্স অনলাইনে ‘ডিজিটাল র্যালি’তে অংশ নিচ্ছেন।
