প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস থেকে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের সব নিট গার্মেন্টস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি এ কে এম সেলিম ওসমান। তবে সেই নির্দেশনা অমান্য করে খোলা রাখা হয়েছে শিল্পাঞ্চল বিসিকে একাধিক গার্মেন্টস। যেখানে শ্রমিকদের কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক শ্রমিক। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম বৃহত্ রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট কারখানা নিট কনসার্ন ও ফকির নিটওয়্যারের একটি সেক্টর খোলা ছিল।
গত শনিবার একাধিক শ্রমিকের অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায় নিট গার্মেন্ট ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠন বিকেএমইএর নির্দেশ অমান্য করে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ভয়াবহ বিপদের মুখে ফেলে দিচ্ছে বিসিকের বেশ কয়েকটি গার্মেন্টস মালিক। প্রতিবেদকের কাছে একাধিক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি নিয়ে গার্মেন্টে আসতে না চাইলেও চাকরি থেকে ছাঁটাই এবং বেতন না দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদেরকে কাজে আসতে বাধ্য করা হচ্ছে। গত শনিবার বিবৃতিতে বিকেএমইএ এর আওতাভুক্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সকল কারখানা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন বিকেএমইএর সভাপতি। এর আগে গত ২৫ বিকেএমইএ এর পক্ষ থেকে সব সদস্য প্রতিষ্ঠান ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখতে মালিকদের প্রতি অনুরোধ রেখেছিলেন তিনি। তার একদিন পর গত ২৬ মার্চ আরএমজি সেক্টরের আরেক বৃহত্ সংগঠন বিজিএমইএ এর সভাপতি রুবানা হকও সংগঠনটির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে একই অনুরোধ করেছিলেন।
বিকেএমইএ এর সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ রাখার বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, সরকার জনসমাগম নিষিদ্ধ করেছে। রাস্তায় চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একত্রে দুই জনের অধিক ব্যক্তিকে এক সঙ্গে রাস্তায় চলাফেরা করতে নিষেধ করেছেন। গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে করে আমাদের শ্রমিক ভাইবোনদের যাতায়াত এবং খাওয়া-দাওয়ায় ভীষণ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা নিজেরাও চাচ্ছি আগামী ৪ এপ্রিল পর্যন্ত আমাদের কারখানাগুলো বন্ধ থাকুক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা ভাইরাস অতিসংক্রমণযোগ্য একটি ভাইরাস। যে ভাইরাসটি বয়স্ক এবং তুলনামূলক দুর্বল মানুষদের বেশি সহজে আক্রমণ করতে পারে। তবে ভাইরাসটি শুধুমাত্র আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ ছাড়া ছড়াতে পারে না। যে কারণে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে বেশ তত্পর সরকার। যে কারণে ইতিমধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, পর্যটনকেন্দ্র, সভা সমাবেশসহ জনসমাবেশ হয় এ ধরনের কাজ ও জায়গা বন্ধ করে দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিসিক শিল্প নগরী কয়েক হাজার শিল্প প্রতিষ্ঠানে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মরত আছে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী। এছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশই মধ্য বয়সি থেকে ঊর্ধ্ব বয়সের শ্রমিক। যাদের মধ্যে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা সব থেকে বেশি। এ ব্যাপারে ফকির নিট ওয়্যার ও নিট কনসার্নের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও দুই প্রতিষ্ঠানের কেউ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি।
