রাজধানীর টোলারবাগে লকডাউন হওয়া এলাকার ঘরবন্দি মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গতকাল রবিবার এ সব পরিবারের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক পরিবারকে পাঁচ কেজি করে চাল, এক কেজি ডাল, একটি সাবান, এক লিটার তেল, এক কেজি আলু ও তিনটি করে মাস্ক দেওয়া হয়। এ সময় ডিএনসিসির নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি আশা করি বিত্তবান মানুষ যারা আছেন, তারাও এগিয়ে আসবেন। এই বিপর্যয়ের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।’ আমি নবনির্বাচিত মেয়র হিসেবে কাউন্সিলরদের নিজ নিজ ওয়ার্ডে তালিকা করতে বলেছি। প্রত্যেক কাউন্সিলর ৫০০ জনের তালিকা করে দেবেন, আর সংরক্ষিত কাউন্সিলররা দেবেন ১০০ জনের তালিকা। এই তালিকা ধরে নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হবে।’ আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘ডিএনসিসির মতো যদি অন্যরাও এগিয়ে আসেন, তাহলে একজন মানুষও না খেয়ে মারা যাবে না। এই শহরে অনেক মানুষ রয়েছে যারা কর্মহীন হয়ে ঘরবন্দি রয়েছেন। তাদের ঘরে খাবার নেই, বের হতে পারছেন না। তাদের পাশে সবাইকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’ খাদ্যসামগ্রী বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির ভারপ্রাপ্ত মেয়র জামাল মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই, স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রমুখ।
ঢাবি ক্যাম্পাসে দুস্থদের
মধ্যে খাবার বিতরণ
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রিকশাচালক, শ্রমিক, গরিব ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদুজ্জামান আসাদ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়ার অর্থায়নে এ খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল রবিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সড়ক দ্বীপে এ খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত এ আয়োজন চলবে। এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জনগণ গৃহে অবস্থান করছেন। এ পরিস্থিতিতে যারা দিনমজুর, রিকশাচালক, কল কারখানার শ্রমিক তারা কাজের অভাবের মধ্যে দুঃখ-দুর্দশায় দিনযাপন করছে। এ সব গরিব ও দুস্থ জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় জীবানুনাশক স্প্রে করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বাসা-বাড়ি ও গণপরিবহনের জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। তাছাড়া শাহবাগ ও বাংলামোটরের বেশ কয়েকটি জায়গায় সাবানসহ পানির ফিল্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
