সদরঘাটের নৌকার মাঝিরা ভাতের পয়সা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রয়েছে মাসিক কিস্তি। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে গত বুধবার থেকে সদরঘাটের সবকিছু বন্ধ। এরপর থেকে নৌকার যাত্রী কমে গেছে। যাত্রী কম হওয়ায় কমেছে ভাড়া। জীবিকার তাগিদে কোনো উপায় না থাকায় ঝুঁকির মধ্যেও নৌকা চালাচ্ছেন তারা। এ অবস্থায় সরকার থেকেও তাদের সাহায্য করা হচ্ছে না। গতকাল রবিবার সদরঘাটের নৌঘাট ঘুরে দেখা যায়, অনেক নৌকার মাঝি বসে আছেন যাত্রীর অপেক্ষায়। যাত্রী আগের মতো নেই। দুই-একজন আসছেন। নৌকার সংখ্যা অনেক। এপার থেকে ওপার অথবা ওপার থেকে এপার পার হতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা করে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। আর যারা রিজার্ভ নিচ্ছেন তাদের জন্য ২০ টাকা। যাত্রীর চেয়ে নৌকা অনেক বেশি হওয়ায় বসে রয়েছেন অনেকেই।
এ ব্যাপারে সদরঘাটের জাফর উদ্দিন বলেন, আগে প্রতিদিন গড়ে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা আয় হতো। এখন ২০০-৩০০ টাকা হচ্ছে। পরিবার পরিজন নিয়ে ঢাকার জিনজিরায় ভাড়া বাসায় থাকি। বাসা ভাড়া দিতে হয় ৫ হাজার টাকা। চার সদস্যের পরিবার প্রতিদিন চাল লাগে দুই কেজি। বাজার লাগে ২০০ টাকার। ঘাটের খরচ আর আমার পকেট খরচ লাগে আরো ১০০ টাকা। সবমিলে দৈনিক ৬০০-৭০০ টাকা খরচ আছে। কিন্তু আয় হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা।
মাঝি হাসান রেজা বলেন, ভাই আমাদের তিন বেলা খাবারের টাকা জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছি। আগের মতো আয় নেই। এরপর মাসে কিস্তি আছে। সব মিলে মহাবিপদে আছি। সরকার যদি খাবারের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে এই ঝুঁকির মধ্যে নৌকা চালাব না।
সাটুরিয়ায় বিপাকে নিম্নআয়ের মানুষ
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সর্বত্রই চলছে অঘোষিত লকডাউন। পরিস্থিতিতে নিম্নআয়ের মানুষরা পড়েছেন বিপাকে। লোকজন সংক্রমণ আতঙ্কে বাড়ি থেকেও বের হচ্ছেন না। সেই সঙ্গে কমে গেছে তাদের আয়। এসব নিম্নআয়ের মানুষ পেটের দায়ে রাস্তায় বের হলেও পুলিশ তাড়িয়ে দিচ্ছে করোনা সংক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য।
সাটুরিয়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে বিভিন্ন সড়কে চার সহস্রাধিক রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, হ্যালোবাইক, ঘোড়ার গাড়িসহ মালবাহী গাড়ি চলতে দেখা যেত। আর প্রতিদিনের আয় দিয়েই চলতো তাদের সংসার। এছাড়া অসংখ্য মানুষ বাইরে দিনমজুরের কাজ করতেন। এখন তাদের কোনো কাজ না থাকায় পড়েছেন মহাবিপাকে। করোনা আতঙ্কে মানুষ ঘর থেকে বের হতে না পারায় তাদের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম বলেন, এরই মধ্যে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে কমিটির মাধ্যমে নিম্নআয়ের মানুষের নামের তালিকা সম্পন্ন হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি ডিটারজেন্ট পাউডার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে।
