২০১৬ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশি মোবাইল গেমস নির্মাতা কোম্পানি হাম্বা স্টুডিওর যাত্রা শুরু হয় মো. আশরাফুজ্জামা শুভ, শেখ তানভীর আহমেদ ও সৈয়দ তাকশেদ করিমের হাত ধরে।
মূলত মোবাইলের ক্যাজুয়াল গেম তৈরি করা হাম্বা স্টুডিওর মূল উদ্দেশ্য। শুরুটা ২০১৬ সালে হলেও প্রথম সফলতা আসে ২০১৭ সালের শেষ দিকে ‘ফ্ল্যাপি ফায়ার’ গেমের মাধ্যমে। গেমটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরে ১১তম স্থান দখল করেছিল।
গত ২৫ অক্টোবর হাম্বা স্টুডিও প্রকাশ করেছে ‘স্পিল ইট!’। গেমটি প্রকাশিত হয়েছে অ্যাপ স্টোর ও গুগল প্লে স্টোরে। আলোর মুখ দেখার মাত্র দুদিনের মধ্যেই গেমটি অ্যাপ স্টোরের টপ ফ্রি তালিকার সপ্তম স্থান দখল করে বিশ্বব্যাপী সাড়া ফেলে দিয়েছে। এ ছাড়া ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়াসহ আরও অনেক দেশে শীর্ষ তালিকায় স্থান পেয়েছে গেমটি। গুগল প্লে স্টোরেও গেমটির অবস্থান ছিল সেরা ১০-এর মধ্যে। গেমটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত গেম পাবলিশিং কোম্পানি টেস্টিপিলের মাধ্যমে দুই প্লাটফর্মেই প্রকাশিত হয়েছে। ‘স্পিল ইট!’ গেমটি মূলত পদার্থ বিজ্ঞানের নীতি মেনে তৈরি লেভেল ভিত্তিক একটি পাজল গেম। গেমটিতে এখন পর্যন্ত মোট ৩০০টি লেভেল রয়েছে। গেমটি তৈরি হয়েছে সব বয়সের মানুষের পারদর্শিতার কথা চিন্তা করে। গেমটি তৈরি করতে সময় লেগেছে প্রায় দুই মাস।
হাম্বা স্টুডিওর চেয়ারম্যান সৈয়দ তাকশেদ করিম বলেন, ‘বাংলাদেশের গেম নির্মাতাদের দক্ষতা রয়েছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক মানের পণ্য তৈরির সুযোগ কম। আমরা গেম বানানোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে একটা জায়গা করে নিতে চাই, যেটা আইটি শিল্পকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।’
হাম্বা স্টুডিওর ডিরেক্টর তানভীর আহমেদ বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই কাজের প্রতি একনিষ্ঠ ছিলাম। ভুল থেকে শিখেছি, বিশ্বসেরাদের থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছি, তাদের সাথে কাজ করেছি, নিজেদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চেষ্টা করেছি এবং করে যাচ্ছি সবার চেয়ে আলাদা কিছু করার। আমরা এটা বিশ্বাস করি গুণগত ও মানসম্পন্ন কাজ ছাড়া এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে টিকে থাকা অনেক কঠিন আর সেদিকেই আমাদের নজর সবচেয়ে বেশি।’
হাম্বা স্টুডিওর ম্যানেজিং ডিরেক্টর আশরাফুজ্জান শুভ বলেন, ‘শুরুর দিকে আমরা এটা ভেবেছিলাম যে কয়েক মাসের মধ্যেই আমরা একটা জনপ্রিয় গেম তৈরি করে ফেলব। অথচ জনপ্রিয় বিশ্বমানের ‘স্পিল ইট!’-এর মতো গেম প্রকাশ করতে আমাদের সময় লেগে গেছে প্রায় আড়াই বছর। নিজেদের কাজের প্রতি ভালোবাসা আর অসীম ধৈর্য আমাদের এতদূর নিয়ে এসেছে এবং আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই।’
