‘পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হয়েছি’

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২০, ২৩:১০

গণপরিবহন চলাচলের ওপর কড়াকড়ির চতুর্থ দিনে রাজধানীতে বেড়েছে যানচলাচল। ঘর থেকে জীবিকার তাগিদে বের হচ্ছেন সাধারণ নাগরিকরা। অফিস-আদালত, শপিংমল বন্ধ থাকলেও সাধারণ মানুষের রাস্তাঘাটে উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। রবিবার ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি অটোরিকশা, ভাড়ায় চালিত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও রিকশা চলাচল ছিল চোখে পড়ার মতো। গণপরিবহনের ওপর লকডাউন আরোপের প্রথম তিন দিনের তুলনায় এদিন গাড়ি ছিল বেশি। শুধু তাই নয়, রাজধানীর ফার্মগেট, কমলাপুর, মিরপুর, গাবতলী, বনানী, মগবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল অপেক্ষমাণ ছিল। নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে মোটরসাইকেল চালকদের ডেকে ডেকে যাত্রী তুলতে দেখা গেছে। গত দুই দিন দেশে কোনো করোনা রোগী শনাক্ত না হওয়ার ঘোষণার পর পাড়া-মহল্লা বা রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

তারা বলছেন, দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ    ঠেকাতে যান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গাড়ি চলাচল বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে মানুষের যাতায়াত বেড়ে গেছে। এতে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কাও বেড়েছে। যে উদ্দেশ্যে অফিস-আদালত বন্ধ করা হয়েছে, গণপরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে।

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে দেখা গেছে, গত তিন দিনের তুলনায় গতকাল সড়কগুলোতে তুলনামূলক গাড়ি বেড়েছে। বেশির ভাগই ব্যক্তিগত গাড়ি। এছাড়া কয়েকটি বাসস্ট্যান্ডে ভাড়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিকশা ও প্রাইভেটকার দাঁড়িয়ে রয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ায় মানুষ ভাড়ায় এসব পরিবহনে নিজের গন্তব্যে যাচ্ছেন। রাজধানীর বনানীতে কয়েকটি মোটরসাইকেল অপেক্ষমাণ থাকতে দেখা গেছে। কেউ হেঁটে গেলে ডাক দিয়ে যাত্রী তুলছে এসব মোটরসাইকেলে। আসাদুল নামের এক জন মোটরসাইকেল চালক বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ থেকে উবার ও পাঠাও অ্যাপ বন্ধ রয়েছে। বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। তাই বের হয়েছি কিছু আয়ের জন্য। টাকা না থাকলে সংসারও চলে না।’

ফার্মগেটে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষারত আতিকুর রহমান বলেন, ‘পেটের দায়ে ঘর থেকে বের হয়েছি। ঘরে বসে থাকলে কেউ খাবার দিয়ে যাবে না, মাস শেষে বাড়ি ভাড়া দিতে হবে। পরিবারের খরচ তো আর বন্ধ থাকছে না।’ তিনি বলেন, ‘বেলা ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত খেটে ৫০০ টাকা পেয়েছি। আরেকটি ট্রিপ দিয়েই যা আয় হবে তা দিয়ে বাজার করে বাসায় ফিরব।’ রাজধানীর বেশির ভাগ সিগন্যাল পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তত্পরতা দেখা গেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। রাজধানী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহন চলাচল বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত তিন দিনের তুলনায় গতকাল সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা বেড়েছে স্বীকার করে বাংলাদেশ অটোরিকশা টেম্পো পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক বলেন, বেশির ভাগই সিএনজি অটোরিকশা বন্ধ রয়েছে। আমরা সবাইকে রাস্তায় নামতে নিষেধ করেছি। তবুও গুটিকয়েক সিএনজি অটোরিকশা রাস্তায় নেমেছে। এদের বেশির ভাগই সিএনজি অটোরিকশার মালিক। দু-চারটি ট্রিপ দিয়ে কিছু আয়ের আশায় তারা বের হন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করা হয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ি চলবে। গণপরিবহনের ওপর আমরা নজরদারি করছি। তবে ব্যক্তিগত বা অন্যান্য গাড়ি চলার বিষয়টি সরকারের সামগ্রিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে যানচলাচল বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পাড়া-মহল্লার অলিগলিতেও মানুষ আগের মতো স্বাভাবিক চলাচল করছেন। দোকানপাট সবই খোলা আছে। মাঝে মাঝে পুলিশের উপস্থিতি দেখতে পেয়ে নিজেদের নিরাপদ দূরত্বে রাখছেন নাগরিকরা। মহল্লায় খেলাধুলাও করতে দেখা যাচ্ছে। লকডাউনের মধ্যে একপ্রকার স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন নগরীর বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নগরীতে সাধারণ নাগরিকদের অবাধ চলাচল ক্ষতির কারণ হতে পারে। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ ছাড়া কারো ঘরের বাইরে বের হওয়া ঠিক না।