বিনোদন প্রতিবেদক
করোনা মোকাবিলায় নিজের সঞ্চিত অর্থ থেকে জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছেন অক্ষয় কুমার।
পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রির কাজ বন্ধ। এমন অবস্থায় বলিউডের ২৫ হাজার দৈনিক কর্মীর পরিবারে দায়িত্ব নিলেন সালমান খান।
শুধুমাত্র অনন্ত জলিল তার অবস্থান থেকে শিল্পীদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তাছাড়া কোনো শিল্পীর ব্যক্তি উদ্যোগ বা সাংগঠনিক উদ্যোগে অস্বচ্ছল শিল্পীদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের কারণে অসহায় মানুষদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে ফান্ড। হলিউড বা বলিউডের তারকারা অনেকেই বড় অঙ্কের অর্থ দান করেছেন মহামারির এই সময়ে। ভারতের গণমাধ্যমগুলো গত কয়েকদিনে বলিউডের অনেক তারকার দানের খবর প্রকাশ করেছে। করোনা মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ২৫ কোটি টাকা দিয়েছেন অক্ষয় কুমার। নিজের সঞ্চিত অর্থ থেকেই এই টাকা তিনি ত্রাণ তহবিলে দিয়েছেন বলে জানা যায়।
টুইটারে তিনি লেখেন, ‘এটা হলো সেই সময়, যখন মানুষের বেঁচে থাকা নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছে। আর এই সময় যা কিছু যেভাবে হোক করা যায়, সেটাই আমাদের করতে হবে। আমি আমার সঞ্চিত অর্থ থেকেই প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলে এই টাকা দিলাম। আপনাদের কাছেও আবেদন নিজেদের সাধ্যমতো যতটা করা সম্ভব করুন। আগে জীবন বাঁচাতে হবে, জীবন থাকলে তবেই তো এই বিশ্ব থাকবে।’ বরুণ দেওয়ান তার ব্যক্তিগত অর্থ থেকে ৩০ লক্ষ টাকার দিয়েছেন তহবিলে। বরুণ লিখেছেন, ‘আমরা এই লড়াই জিতবোই, দেশ বাঁচলে তবেই আমরা বাঁচবো।’
লকডাউনের এই সময় পুরো বলিউড ইন্ডাস্ট্রির কাজ বন্ধ। এমন অবস্থায় বলিউডের ২৫ হাজার দৈনিক কর্মীর পরিবারে দায়িত্ব নিলেন সালমান খান। এই কর্মীদের মধ্যে জুনিয়া আর্টিস্ট, টেকনিশিয়ানসসহ আরও অনেকেই রয়েছেন। জানা যায়,
সালমান খানের সংস্থা ‘বিয়িং হিউম্যান’-এর মাধ্যমে এই সাহায্য কর্মীদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবেন। গত ৩ দিন আগেই সালমানের স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে ফোন করে এ কথা জানানো হয়। প্রায় ৫ লক্ষ কর্মী রয়েছে। যাদের মধ্যে ২৫ হাজার কর্মীর আর্থিক সাহায্যের ভীষণ প্রয়োজন। বিয়িং হিউম্যানের পক্ষ থেকে এই কর্মীদের দায়িত্ব বহনের কথা জানানো হয়েছে। এ সমস্ত কর্মীরা যাতে সরাসরি টাকা সরাসরি পায়, তাই বিয়িং হিউম্যানের পক্ষ থেকে তাদের অ্যাকাউন্টের যাবতীয় তথ্যও নিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তেলেগু তারকা প্রভাস সরকারি তহবিলে ৪ কোটি রুপি দান করেছেন। সম্প্রতি এমনটাই জানা যায়। প্রভাস বলেন, ‘প্রতিটি মানুষকে নিজ জায়গা থেকে সতর্ক হতে হবে। কারণ আতঙ্কের বাইরে আমরা কেউ না। সবাই হলে এই সমস্যা দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব। সরকার আর তারকাদের বাইরে সাধারণ মানুষদেরও এগিয়ে আসতে হবে এইা সঙ্কটময় সময়ে। আশা করি সবাই এক হয়ে কাজ করবো।’ মহামারি করোনার এমন অবস্থায় নিজ দায়িত্ব থেকে বিশ্বের অনেক শিল্পীদের এগিয়ে আসতে দেখা গেলেও এদেশের শিল্পীদের আর্থিক সহযোগিতার করার বিষয়গুলো সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। শুধুমাত্র অনন্ত জলিল তার অবস্থান থেকে শিল্পীদের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছেন। তাছাড়া কোনো শিল্পীর ব্যক্তি উদ্যোগ বা সাংগঠনিক উদ্যোগে অস্বচ্ছল শিল্পীদের জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে সচেতনতার কথা বলা আর নিজেদের ব্যক্তিগত সময়ের মুহূর্ত শেয়ার করা ছাড়া কোনো উদ্যোগে নেই এদেশের শিল্পীরা। বড় পরিসরে না হোক, অল্প পরিসরেও এখনও এক হতে পারেনি শিল্পীরা। বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন কাজ করলেও সেগুলো নিয়ে আবার শিল্পীরাই নেতিবাচক মন্তব্য করছেন।
