হ্যান্ড স্যানিটাইজার নাকি সাবান-পানি?

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২১:২০

বাজারে তৈরি হয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের তীব্র সংকট। এমন সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এগিয়ে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, কুমিল্ল­া বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্ল­া ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজসহ বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তাঁরা নিজেদের ল্যাবেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরি করে বিতরণ করছেন, কিন্তু তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। স্যানিটাইজারের বিকল্প ও সহজলভ্য আদৌ কিছু আছে কি? বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা ও বিশিষ্ট চিকিত্সকদের মত, সাবান পানি স্যানিটাইজারের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর যা কি না সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী। স্যানিটাজার ৬০ শতাংশ অ্যালকোহলিক দ্রবণে ভাইরাসের আবরণ তথা ভাইরাসকে ধ্বংস করতে কার্যকর। কিন্তু এর চেয়ে কম ঘনমাত্রার স্যানিটাইজার খুব একটা কার্যকর নয়। অন্যদিকে সাবানের পানি ভাইরাসের আবরণ বা ভাইরাসকে ধ্বংস করতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, হাত সাবান-পানি দিয়ে ধুতে হবে। হাতের নোংরা দৃশ্যমান না হলে অ্যালকোহলসমৃদ্ধ হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান-পানি দিয়ে বারবার হাত ধুতে হবে। বিশিষ্ট চিকিত্সক অধ্যাপক এ বি এম আবদুল্ল­াহ একটি গণমাধ্যমে বলেন, ‘সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়াই যথেষ্ট। সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড হাত ধুলে ভাইরাস মারা যায়।’ বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসের বাইরের আবরণ লিপিড দিয়ে তৈরি। অন্যদিকে সাবান হলো ক্ষার জাতীয় পদার্থ। ক্ষার লিপিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে লিপিডকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে করোনা ভাইরাসকে ধ্বংস করতে সক্ষম। তাই অহেতুক দুষ্প্রাপ্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পিছে না দৌড়ে সাবান-পানি ব্যবহারে আমাদের মনোযোগী হওয়া একান্ত জরুরি।

তানভীর আহমেদ রাসেল

শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, কুমিল্ল­া বিশ্ববিদ্যালয়