সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার
চলমান বিশ্ব আতঙ্ক করোনা সংক্রমণ রোধে গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কক্সবাজার সৈকতসহ পর্যটন স্পটে বেড়ানো নিষিদ্ধ করেছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে বৃহস্পতিবার থেকে বন্ধ রয়েছে সব ধরনের পরিবহন, দোকান ও কর্মক্ষেত্র। ফলে এক প্রকার লকডাউন অবস্থায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্নবিত্ত, দিনমজুর ও খাবার হোটেলের উচ্ছিষ্ট চেয়ে খাওয়া ছিন্নমূল মানুষগুলো। একইভাবে করোনার ভয় ভর করেছে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্পেও।
এদিকে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের একদিনের বেতন জেলা ত্রাণ তহবিলে দান করেছেন। আর ক্যাম্পে করোনা রোধে বিদেশিদের আনাগোনা বন্ধ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণা এবং পরিচ্ছন্ন নিয়মে ভোগ্যপণ্য বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত শরণার্থী ও প্রত্যাবাসন কমিশনার এস এম শামসুজ্জোহা।
করোনার ঝুঁকি এড়াতে গত ১৮ মার্চ থেকে কক্সবাজারের সকল পর্যটনকেন্দ্র পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়। ফলে সৈকত এবং পর্যটন স্পটগুলো জনশূন্য হয়ে গেছে। বন্ধ রয়েছে সেন্টমার্টিনগামী সকল পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলও। পর্যটন কেন্দ্রীক আবাসিক হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাফেসহ খাবার প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, করোনায় কর্মহীন হয়ে পড়া কক্সবাজারের আট উপজেলার হতদরিদ্রদের জন্য ৩০০ মেট্রিক টন চাল এবং নগদ ১২ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে কর্মহীন মানুষগুলোর ঘরে ঘরে গিয়ে ত্রাণসামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, কক্সবাজারে করোনার উপস্থিতি পাওয়া বিদেশফেরত নারী ঢাকায় চিকিত্সাধীন রয়েছেন। এছাড়া জেলায় এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে আসা ৫৫৩ জনের মধ্যে নিরাপদ সনদ নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৯৮ জন। তবে রোহিঙ্গা শিবিরে কারো মধ্যে এখনো করোনার লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তেমনটা দেখা গেলে রক্ত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া রয়েছে।
