করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের হাত থেকে জনগণকে রক্ষায় সরকার ঘোষিত ১০ দিনের ছুটিতে সুপ্রিম কোর্টের সব বিচারপতি ঢাকায় অবস্থান করছেন। বহুতল ভবন জাজেস টাওয়ার ও জাজেস কমপ্লেক্সের নিজ নিজ বাসায় রয়েছেন তারা। দীর্ঘ এই ছুটিতে বাসায় থেকে বিচারপতিরা বিভিন্ন মামলায় ঘোষিত রায় ও আদেশ লিখছেন। আবার কেউ কেউ রায় লেখার পাশাপাশি করছেন লিগ্যাল রিসার্চ, যেগুলো বিভিন্ন মামলায় উত্থাপিত আইনি বিতর্ক নিরসনে ভবিষ্যতে মামলা পরিচালনা ও রায় লেখায় কাজে আসবে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে।
গত ১৫ মার্চ থেকে সুপ্রিম কোর্টে অবকাশকালীন ছুটি শুরু হয়। ছুটিতে কয়েকটি দ্বৈত ও একক বেঞ্চকে জরুরি বিষয়সমূহ নিষ্পত্তির জন্য দায়িত্ব প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। এ অবস্থায় গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার সারাদেশে ১০ দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ঐ সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ঐ ছুটির ধারাবাহিকতায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ এবং অধস্তন আদালতসমূহে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন প্রধান বিচারপতি। এই ছুটিতে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতি এবং হাইকোর্ট বিভাগের ৯৭ জন বিচারপতি ঢাকায় নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করছেন। এ সময় বিচারপতিরা ঘোষিত বিভিন্ন মামলার রায় ও আদেশ লিখছেন। সূত্র জানিয়েছে, এই সময়ে বিচারপতিরা কয়েক শত রায় ও আদেশ লেখা সম্পন্ন করেছেন। পাশাপাশি অনেক বিচারপতি লিগ্যাল রিসার্চের কাজ সম্পন্ন করছেন। আবার কেউ কেউ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন মামলার রায় পড়ছেন।
বিচারকদের খোঁজ নিতে গঠিত হয়েছে মনিটরিং ডেস্ক
করোনা ভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অধস্তন আদালতের বিচারক ও কর্মচারীদের খোঁজ রাখতে আইন মন্ত্রণালয় গঠন করেছে একটি মনিটরিং ডেস্ক। ঐ ডেস্কে মন্ত্রণালয়ের দুজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন আইন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শেখ গোলাম মাহবুব ও এস মুহাম্মদ আলী। তারা দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অধস্তন আদালতের সকল পর্যায়ের বিচারক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ের সচিবকে জানাচ্ছেন। আইনসচিব গোলাম সারওয়ার মনিটরিং ডেস্কের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য রাত ১০টায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে অবহিত করছেন।
সুস্থ আছেন ৩০ বিচারক
দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফেরা অধস্তন আদালতের ৩০ বিচারকের হোম কোয়ারেন্টাইন শেষ হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ঐ বিচারকেরা সুস্থ আছেন। আদালত খোলার পরই তারা কাজে যোগ দেবেন। আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১৫ মার্চ থেকে তারা হোম কোয়ারেন্টাইনে যান। গত ২৯ ফেব্রুয়ারি দুই সপ্তাহের প্রশিক্ষণের জন্য অধস্তন আদালতের ৩০ বিচারক অস্ট্রেলিয়ার ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। ঐ প্রশিক্ষণ শেষে ১৫ মার্চ তারা দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার আগেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরই দেশে ফিরে জেলা জজ, অতিরিক্ত জেলা জজ, যুগ্ম জেলা জজ ও সহকারী জজ পদমর্যাদার ৩০ বিচারক হোম কোয়ারেন্টাইনে যান।
