বেসরকারি সব শিল্প খাতের জন্য তহবিল দাবি

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২০, ২২:১০

করোনা ভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় বেসরকারি সবগুলো খাতকেই আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। শুধু রফতানি খাত যার সিংহভাগই গার্মেন্টস শিল্প, সে খাতে ৫ হাজার কোটি টাকার তহবিলের কথা বলা হয়েছে। অন্যান্য খাতের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা এতে হতাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, অন্য খাতেও করোনার সমান প্রভাব পড়েছে। একজন নির্মাণশ্রমিক কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যেমন ঝুঁকিতে পড়েছে, তেমনি নির্মাণ শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা ব্যাংক ঋণের কারণে বড়ো অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। কারণ, উদ্যোক্তাদের তো ব্যাংকের কিস্তি ঠিকই পরিশোধ করতে হবে। ব্যাংক ঋণের কিস্তি প্রদান এখন ব্যবসায়ীদের বড়ো উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, আয় না থাকলে কিস্তি পরিশোধ করবেন কীভাবে?             কর্মচারীদের বেতনভাতা প্রদান করবেন কীভাবে? লকডাউনের কারণে কর্মচারীরা কাজ করতে না পারায় তারাও জীবনযাত্রার ব্যয় বহন নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। নিম্ন-আয়ের অনেকেই হয়তো সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন না। অনেকেই আছেন, যারা লাইনে দাঁড়িয়ে চালডালের প্যাকেট নিতে অভ্যস্ত নন। এসব শ্রেণীপেশার লোকেরা এখন জীবনযুদ্ধের এক চরম সীমায় দাঁড়িয়ে আছে। করোনার প্রভাব অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যত্ কী হবে—পরিবারপরিজন নিয়ে খাবে কী, থাকবে কোথায়, বাড়ি ভাড়া জোগানোই অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশে ব্যাংকের সুদ মওকুফ করা হয়েছে। সুদ গণনা স্থগিত করা হয়েছে। বাড়ি ভাড়া সরকারিভাবে প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নগদ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে প্রায় সব সেক্টরকেই। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বেশির ভাগ বেসরকারি খাত কোনো সুবিধা প্রাপ্তির আশায় বুক বাঁধতে পারছেন না। ফলে, সব খাতের উদ্যোক্তারাই দাবি করছেন সরকারি সহায়তার।

এদিকে, রফতানি খাতে তহবিলের ঘোষণা দিলেও যারা সহযোগী খাত বা প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক, তাদের ব্যাপারে এখনো ইতিবাচক কোনো ঘোষণা আসেনি। তাদের দাবি বিষয়টি স্পষ্ট করা দরকার। বস্ত্রখাত, গার্মেন্টস এক্সেসরিজসহ অন্যান্য রফতানি খাতের সহায়ক খাতগুলো এই তহবিলের অন্তর্ভুক্ত হবে কি না—তা বলা হয়নি।

তাদের মতে, করোনার আঘাত সবখাতেই পড়েছে। সবখাতেই চাকরি হারানোর অবস্থা তৈরি হয়েছে। কাজেই মানুষের হাতে নগদ টাকা সরবরাহ বাড়াতে না পারলে দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। বর্তমানে বাজারে পণ্যসামগ্রীর যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। কিন্তু বাজার ক্রেতাশূন্য। ঘরে বসে থাকলে, আয় না থাকলে, চাকরি চলে গেলে কিনতে না পারলে এক সংকটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। যা আগেভাগেই প্রস্তুতি না নিলে পরে সামাল দেওয়া দুঃসাধ্য হবে।