সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ইতালি থেকে দেশে ফিরে হতদরিদ্রদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদে তালিকা খুঁজতে যান সোহেল সরকার নামে এক প্রবাসী। সেখানে তিনি সরকারি ওয়েবসাইটে দেখতে পান, হতদ্ররিদ্র প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় এক থেকে নয়জনের মধ্যে যাদের নাম রয়েছে তারা সবাই তার নানার বাড়ির সদস্য ও পার্শ্ববর্তী সগুনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন যাবৎ তারা সকলেই ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন।
সোহেল সরকার উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের কাজিপুর গ্রামের সাহাদত সরকারের ছেলে। তিনি মোবাইল ফোনে জানান, প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় ১নং আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম জুয়েল ইতালিতে বসবাস করছেন, ২নং জাহাঙ্গীর আলম রুবেল আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে বসবাস করেন, ৩নং জাকারিয়া ইসলাম ও ৪নং জয়নাল আবেদীন রোজ লন্ডনে বসবাস করেন, ৫নং জহুরা খাতুন (তার নানী) লন্ডনে বসবাস করেন, ৬নং কামরুজ্জামান ইতালিতে বসবাস করেন, ৭নং বিউটি খাতুন লন্ডনে বসবাস করেন, ৮নং সাথী ও ৯নং বিদ্যুতের নাম দেওয়া আছে। তার দু’জনেও বর্তমানে লন্ডনে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ কাউরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ূবুর রহমান রাজন ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বারুহাস ইউনিয়ন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন সগুনা ইউনিয়ন এর বেশ কয়েকটি প্রবাসী পরিবার। এগুলো দেখে হাসবো না কাঁদবো?’ এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তাড়াশ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, এদের নামে টাকা কে তোলে তা জানা দরকার এবং পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। রহমান নামে একজনের মন্তব্য, এ যেন পুকুর চুরি।
বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী ও লন্ডন প্রবাসী জয়নাল আবেদীন রোজ তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন বারুহাস ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকায় থাকা ওই নয়জনই ইউরোপ, ইউ.কে ও আমেরিকা প্রবাসী। যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ করছি।
বারুহাস ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোক্তার হসেন জানান, প্রতিবন্ধী ভাতার তালিকা অনেক আগে থেকেই করা। সেভাবেই রয়ে গেছে। তবে অন্য ইউনিয়নের লোকজনের নাম থাকার কথা না।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা ইফ্ফাত জাহান দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এএম
