একাদশ সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের ২৫ নেতার নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ দেয়নি হাইকোর্ট। ফলে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে তাদের উপর আইনগত কোনো বাধা নেই। তবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের অনুমতি সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট ২৫ প্রার্থীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিচারপতি জেবিএম হাসান ও মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। এর আগে রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার তানিয়া আমীর জামায়াত নেতাদের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত ইসির সিদ্ধান্ত স্থগিতের জন্য আবেদন জানান।
আদালত বলে, আপনারা অনেক দেরি করে ফেলেছেন। আমরা এই মুহূর্তে ইসির সিদ্ধান্তের উপর কোনো হস্তক্ষেপ করব না।
গত ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীসহ চার ব্যক্তি জামায়াত নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন। আদালত জামায়াত নেতাদের মনোনয়নপত্র বাতিল সংক্রান্ত আবেদনটি তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে ইসিকে নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি রুল জারি করে। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৪ ডিসেম্বর আবেদনটি নিষ্পত্তি করে ইসির চিঠিতে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের আইনগত কোনো সুযোগ নেই। ফলে আবেদনটি না-মঞ্জুর করা হলো।
কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বুধবার হাইকোর্টে সম্পূরক আবেদন করেন ওই রিটকারীরা। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে তানিয়া আমীর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জন নেতার মধ্যে ২২ জন ধানের শীষ ও ৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যেহেতু নিবন্ধন অবৈধ সেহেতু ওই দলের নেতা হয়ে অন্য দলের প্রতীকে এদের নির্বাচন করার সুযোগ নেই। এর পরেও ইসি অবৈধভাবে সিদ্ধান্ত দিয়ে এদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিয়েছে। জবাবে ইসির কৌঁসুলি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ ইয়াসিন খান বলেন, ইসি কোনো দলের পক্ষে নয়। তাদের সামনে যে নথি এসেছে তার ভিত্তিতে কমিশন সিদ্ধান্ত দিয়েছে।
ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়া ২২ প্রার্থীর পক্ষে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এরা জামায়াতের কোনো প্রার্থী নয়। প্রার্থীরা যে লিফলেট ও ব্যানার টাঙ্গিয়েছে সেখানে কোথাও জামায়াতের কথা লিখা নেই। এখানে বেআইনি কিছু হয়নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালে রিটের রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ও অবৈধ ঘোষণা করে। হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, রাজনৈতিক দল হিসেবে ২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৯০বি (১)(বি)(২) এবং ৯০সি অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও সংবিধানপরিপন্থী।
