দেশে জঙ্গি ঘাঁটি করতে দেব না

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮, ২২:৪৮

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা পাকিস্তানের নাম উল্লেখ না করে বলেছেন, ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারতসহ কোনও প্রতিবেশী দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের ঘাঁটি করতে দেব না। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে জিতে ক্ষমতায় এলে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানকে ফিরিয়ে এনে বিচারের রায় কার্যকর করা হবে।

গত বুধবার ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী জোট ভালোই জানে, তারা নির্বাচনে জিততে পারবে না। সন্ত্রাস প্রশ্নে তাদের অতীত রেকর্ড খুব খারাপ। ভোট বানচালের চেষ্টা করতে পারে তারা। কিন্তু এ বার আমরা শুধু নই, দেশবাসীও সতর্ক।

আলাপচারিতায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে ডুব দেন শেখ হাসিনা। কৃতজ্ঞতা জানান ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর প্রতি। একই সঙ্গে ২০১৩-১৪ সালের বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও সরব হন তিনি।

চলতি ভোট প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের রাস্তাঘাটে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকার অজস্র পোস্টার ব্যানার চোখে পড়লেও বিএনপির ধানের শীষ কার্যত অনুপস্থিত। বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে তাদের পোস্টার। প্রচারও করতে দিচ্ছে না আওয়ামী লীগ। এ ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেন, আমরাও দেখেছি। ওদের প্রার্থী রয়েছে, কিন্তু পোস্টার নেই। অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ের কারণে ওরা অনেক জায়গায় পোস্টার লাগাতে পারছে না, আর নালিশ করছে আমাদের নামে। আসলে ওরা প্রত্যেকটি আসনে যে বেশি টাকা দিয়েছে তাকে টিকিট দিয়েছে।

লন্ডনে থাকা তারেককে ফিরিয়ে আনার প্রশ্নে শেখ হাসিনার বক্তব্য, তিনি গ্রেনেড হামলাসহ বহু অপরাধে যুক্ত। তারেক বাংলাদেশের নাগরিক। তাই বিচারের জন্য ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে তাকে ফিরিয়ে আনা হবে। ভোটের আগে পাক দূতাবাসের মাধ্যমে আইএসআই তত্পরতা বাড়াচ্ছে বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য, আমরাও জানি এই তত্পরতা চলছে। আসলে বিএনপির অনেক নেতার শরীরটা পড়ে থাকলেও আত্মা রয়েছে ওখানে। বাংলাদেশের কোনও বিষয় এলে ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধিতা ভুলে যেন এক হয়ে যায়। কিন্তু সব বিষয়ে এক হয় কি? এই মুহূর্তে কোনও বিতর্কিত মন্তব্য করতে নারাজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এমনকি বাংলাদেশের ইলিশের ভারতে রফতানির বিষয়টিতেও বিশদে কিছু বলতে চাইলেন না। হাসিমুখে শুধু জানিয়েছেন, পানি পেলেই তিনি ইলিশ দিতে তৈরি।

আনন্দবাজার পত্রিকায় এসেছে, সুধাসদনে নির্বাচনের তিনদিন আগে শেখ হাসিনাকে অন্য মেজাজে পাওয়া গেল। তার মুখে দেখা গেছে তৃপ্তির হাসি। বড় নিশ্চিন্ত ভাবে বললেন, বাংলাদেশের জনগণের ওপর আমার বিপুল আস্থা। মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হব। নির্বাচনের আগে বিরোধীরা তো তার দলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলছে। কথাটা বলতেই যেন একটু বিরক্ত হলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, নালিশ করার পাশাপাশি বিভ্রান্তি ছড়াতে এবং মিথ্যা কথা বলতে ওরা ভীষণ পারদর্শী।

গণতন্ত্র ধ্বংসে আইএসআই-এর কাছে ঘুষ নিচ্ছে বিএনপি

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাত্কারে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির সহায়তায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। তবে বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশের জনগণ আবারও তাদের ক্ষমতায় আনবে।