বাগেরহাটে ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ সেবা চালু

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪০

 ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ এই স্লোগানে বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা চালু হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে হাসপাতাল বিমুখ রোগীদের সুস্থ রাখতে বাগেরহাট সদর আসনের এমপি শেখ সারহান নাসের তন্ময়ের উদ্যোগে বুধবার দুপুর থেকে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ এই স্বাস্থ্যসেবা চালু করে। স্বাস্থ্যসেবা নিতে হটলাইনে কল করতে স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। 

স্বাস্থ্য বিভাগের হটলাইনের নম্বরগুলোতে (০১৭৬৮-১৫৬৮০৮, ০১৭৪২-৮২৭৭১২, ০১৩১১-০৭৮৮০২, ০১৭৬০-৬৪৬৫৬৯, ০১৭৯৯-৮০৪৬৬৪) ফোন করে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। কল করলে গাড়ি নিয়ে ডাক্তারই চলে যাচ্ছেন রোগীর বাড়িতে। বাগেরহাটে ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা চালু খবরটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এজন্য সাধারণ মানুষ এমপি শেখ তন্ময়কে ধন্যবাদ জানান।

কচুয়া উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের অসুস্থ রাজিয়া বেগমের (৮০) স্বজন দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমার আত্মীয়ের অ্যাজমা রয়েছে। মাঝে মাঝে তার শ্বাসকষ্ট বাড়ে। হঠাত্ তার শ্বাসকষ্ট বাড়লে ফোন করার পরই দ্রুত ডাক্তার বাড়িতে এসে অসুস্থ রজিয়া বেগমের চিকিত্সা করেছেন। চিকিত্সক বাড়িতে এসে চিকিত্সা দেওয়ায় আমরা খুশি হয়েছি।

বাগেরহাটের সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা হাজরা রত্ফর রহমান জানান, রোগীদের কাছে ডাক্তার পাঠানোর ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। চিকিত্সকরা কল পেয়ে রোগীর বাড়িতে সেবা দিতে শুরু করেছেন। তাদের এই স্বাস্থ্যসেবা চালুর ফলে সাধারণ মানুষ দারুণভাবে উপকৃত হবে।

ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিমের চিকিত্সক ডা. মো. মিরাজুল করিম বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়, রোগীর কাছে ডাক্তার’ এই স্লোগানে বাগেরহাট সদরের এমপি শেখ তন্ময়ের নির্দেশে স্বাস্থ্য বিভাগ একটি ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থাকা পর্যন্ত মেডিক্যাল টিম এই স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত থাকবে।

বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির বলেন, করোনা ভাইরাসের ভয়ে বাগেরহাটের সাধারণ রোগীরা যাতে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য সদর আসনের এমপি শেখ তন্ময় ভ্রাম্যমাণ মেডিক্যাল টিম গঠন করেছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিত্সকরা কোনো রোগীর হটলাইনে কল পেলেই তাদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন।