নির্বাচনের আগেই অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) গুজবের ডালপালা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এটা প্রতিরোধ করতে সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ হিমশিম খাচ্ছে। এই বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা সারাদেশের মানুষকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, এসব গুজব বা অসত্য তথ্য কেউ শেয়ার করলে, লাইক দিলে অথবা মন্তব্য করলে অবস্থা ভেদে তারাও অপরাধী হতে পারেন।
সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশেও গুজব একটি বড় সমস্যা। কারণ আমাদের দেশের মানুষের একটা মনস্তাত্ত্বিক দিক হচ্ছে গুজব বা মিথ্যা তথ্য বিশ্বাস করা। যিনি যা ভাবছেন সেরকম কিছু পেলেই তা প্রকাশ করছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। অন্যরাও সেটি বিশ্বাস করে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার করছেন। ফলে কোনো কোনো সময় এটি কয়েকটি সমস্যা সৃষ্টি করছে। কিন্তু কেউ বোঝার চেষ্টা করে না। প্রতিটি গুজবই একটি নির্দিষ্ট অসত্ উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়। গুজবকে সাধারণত দুইভাগে ভাগ করা যেতে পারে। ইনোসেন্ট গুজব। এতে সহিংসতার সম্ভাবনা নেই। আরেক ধরনের গুজব হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রণোদিত বা ইনটেনশনালি মিথ্যে তথ্য প্রচার করা। এটাই চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউব) এবং অনলাইন নিউজ পোর্টালের মাধ্যমে গুজব মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। নির্বাচনে গুজব ছড়িয়ে অস্থিতিশীল ও সহিংস পরিবেশ তৈরি, ভোটারের মনোভাব পরিবর্তনের চেষ্টা ও ভোট প্রভাবিত করার আশঙ্কা করছে সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। এ ধরনের কাজে দেশি, বিদেশি কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তত্পর রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত দুই মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে আনুমানিক ২শ’ ফেসবুক আইডি বন্ধ করে দিয়েছে সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ। ৩৪টি ভুয়া নিউজ পোর্টাল ও ১৫টি ইউটিউব চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এ পর্যন্ত ৩৪ জন গ্রেফতার হয়েছেন।
এ ব্যাপারে সাইবার সিকিউরিটি এ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ অতিরিক্ত উপ-কমিশনার নাজমুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে গত দুই মাস ধরে গুজব নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিভিন্ন দেশে নির্বাচনের আগে ও পরে জঙ্গিরা বেশি সক্রিয় থাকে। তারা চেষ্টা করে সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশে একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করতে। এসব মোকাবেলায় সাইবার ক্রাইম ইউনিটের টিম প্রস্তুত রয়েছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গুজব, অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক তথ্য অনলাইন মিডিয়াতে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে পুলিশের পর্যাপ্ত নজরদারি রয়েছে। নেপথ্যে কারা কারা রয়েছে-এদেরকে শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, র্যাব সদর দফতরসহ প্রতিটি ব্যাটালিয়নে দক্ষ কর্মকর্তা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলেই তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ও সাইবার ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনী গুজব প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি জেলায় পুলিশের একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। কোনো ধরনের গুজব ক্রস চেক করলে গুজব তেমনভাবে ছড়াতে পারবে না।
