রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের ‘শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পাশে পানির ট্যাংকের সামনে তিনজন শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসের কুকুরগুলোর জন্য খাবার নিয়ে আসেন। ৮-১০টি কুকুর সেখানে ঘুরাঘুরি করছে। সেখানে খাবার রাখতেই কুকুরগুলো দৌঁড়ে এসে গ্রোগ্রাসে খাওয়া শুরু করে। ভাগ পাওয়ার আশায় ডজনখানেক কাকও জড়ো হয়েছিলো সেখানে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জনশূন্য ক্যাম্পাসে মানুষ-প্রাণিতে অদ্ভুত এমন ভালোবাসার দেখা মেলে। করোনা ভাইরাসের (কভিড-১৯) সংক্রমণ মোকাবেলায় গত ১৮ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে চলছে লকডাউন। ফলে ক্যাম্পাস ও আশপাশের খাবার দোকানগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শুধু মানুষ নয়, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে খাবার সংকট পড়েছে পশুপাখির জীবনেও। শিক্ষার্থীদের উচ্ছিষ্ট খাবার খেয়ে যে প্রাণিগুলো প্রয়োজন মিটাতো, এখন সেটিও বন্ধ।
তবুও সববাধা উপেক্ষা করে, ক্যাম্পাসের তিনজন শিক্ষার্থী নিজেদের সামান্য হাতখরচে, বোবা প্রাণিগুলোকে পৌঁছে দিচ্ছেন দুই বেলার খাবার। তারা ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগের নাম রেখেছেন ‘ক্যাম্পাস পোষাপ্রাণি সংরক্ষণ প্রকল্প’। বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী প্রসেনজিৎ কুমার, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাহমুদ সাকী ও নাট্যকলা বিভাগের ইমামুল বাকের আপ্যোলো এই খাবার সরবরাহের উদ্যোক্তা। তাদের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী তুষার।
জানা যায়, প্রতিদিন সকাল ১০টা ও রাত সাড়ে ৮টায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় অভুক্ত কুকরগুলোকে খাবার দিচ্ছেন। নিজ খরচে রাকসু ভবনের সামনে রান্না করা হয়। প্রতিদিন গড়ে ১৫ কেজি চাল ও ডাল রান্না করা হয়। প্রায় ৫০টি কুকুরকে প্রতিদিন দুবেলা করে খাবার বিতরণ করছেন তারা। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও বিশ্ববিদ্যালয় না খোলা পর্যন্ত তারা কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।
উদ্যোক্তাদের একজন প্রসেনজিৎ কুমার বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে পুরো পৃথিবী স্থবির হয়ে পড়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় মানুষের ও পশু-পাখির ভারসাম্য জরুরি। ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় পশু-পাখিদের খাদ্যের জোগানও বন্ধ হয়ে গেছে। ওরাতো নিজেরা একা চলতে পারে না। তাই ওদের খাবারের ব্যবস্থা করা দরকার। এ ভাবনা থেকে আমরা নিজেদের অর্থায়নে এ উদ্যোগ নিয়েছি। মানুষ হিসেবে এটি আমাদের দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে কেউ চাইলে এ প্রকল্পের অংশীদার হতে পারবেন। তবে নগদ টাকা নেয়া হচ্ছে না। তবে ইচ্ছুকরা খাদ্য সামগ্রী কিনে দিতে পারেন। স্বেচ্ছাসেবী ও পর্যাপ্ত উপকরণ পেলে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশের এলাকাতেও খাবার সরবরাহ করবেন তারা।
ইত্তেফাক/আরকেজি
