এইরকম ঘটনা আমরা সচরাচর দেখি না। সংবাদটি আমাদের স্পর্শ করিয়াছে। ইত্তেফাকের এক প্রতিবেদন হইতে জানা গিয়াছে, টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারের উপর দিয়া প্রবাহিত ধলেশ্বরী, লৌহজং ও এলেংজানি নদীর বালি ড্রেজার ও ভেকু দিয়া কাটিয়া ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর দিয়া বিভিন্ন স্থানে লইয়া যাওয়া ঠেকাইতে না পারিয়া এলাসিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেনের মাটির গাড়ির সামনে টানটান হইয়া শুইয়া পড়েন। তাহার অভিযোগ, মাটির গাড়ির বিকট শব্দে ও ধুলাবালিতে মানুষের জীবন অতিষ্ঠ হইয়া উঠিয়াছে। কোনোভাবেই উহাদের কার্যক্রম বন্ধ করা যাইতেছে না। উল্লেখ্য, উহা বন্ধ করিতে পূর্বে এলাকাবাসী চেষ্টা চালাইয়া ব্যর্থ হইয়াছে।
জেলায় জেলায় নদী, খাল হইতে মাটি কাটা, বালি উত্তোলন হইয়া থাকে তাহার অনুমতি দিয়া থাকে জেলা প্রশাসন। কোথাও কোথাও যে পরিমাণ উত্তোলন করিতে দেওয়া হয় তাহার চাইতে অধিক পরিমাণ বিস্তৃত এলাকা হইতে মাটি-বালি উত্তোলন করা হয়। আবার কোনো কোনো স্থানে বিনা অনুমতিতেই কেহ কেহ উহা করিয়া থাকে। প্রশ্ন হইল, জেলা প্রশাসন কী করে? তাহাদের বিভিন্ন স্তরে কর্মকর্তা রহিয়াছেন। সুনির্দিষ্ট রহিয়াছে তাহাদের দায়িত্ব-কর্তব্য। যদি সরকারের আইন, বিধিমালা, প্রজ্ঞাপন, পরিপত্র, আদেশ রহিয়াছে তাহা পড়িয়া দেখিতেন, অথবা অনুসরণ করিতেন তাহা হইলে সোনার বাংলা হইয়া যাইত এই দেশ; কিন্তু আমরা বুঝিতে পারি শুভংকরের ফাঁকিটা কোথায় এবং কেন! একমাত্র বিচার বিভাগীয় কার্যক্রম ব্যতীত জেলায় সকল কর্মকাণ্ডের সহিত জেলা প্রশাসনের কর্তৃত্ব, তদারকি ও সংশ্লিষ্টতা রহিয়াছে। সরকারের সম্পদ, জমি, নদীনালা খাল-বিল, জলমহালের উপর রহিয়াছে সরাসরি কর্তৃত্ব। তাহা হইলে এই দৃশ্য আমাদের কেন দেখিতে হয়। দ্বিতীয়ত এই সময়ে দেশে সর্বক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখিতে বলা হইয়াছে। যাহারা উত্সবের মতো বালি উত্তোলন করিয়া চলিয়াছেন তাহারা আরো একটি অপরাধ করিতেছেন আদেশ না মানিয়া।
আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ রাখিব, মাটি-বালি উত্তোলনে অনুমোদন নেওয়া হইয়াছে কি না এবং নেওয়া হইলে সকল শর্তা মানা হইতেছে কি না—তাহা অনুসন্ধান করিয়া দেখিতে হইবে। আর যদি বিনা অনুমতিতে, বিশৃঙ্খলভাবে এই মাটি-বালি উত্তোলন করা হয় তাহা হইলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। আমরা জানি, দেশে বহু ধরনের বিশৃঙ্খলা রহিয়াছে। কোনো ক্ষেত্রেই নিয়মকানুনের প্রায় বালাই নাই। ইহার পিছনে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যে একটি যোগসূত্র থাকে তাহা বলাই বাহুল্য। আমরা ইহাও বিশ্বাস করি, সরকারি কর্মচারীরা তাহাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করিলে দেশের বহু সমস্যা লাঘব হইয়া যাইবে।
