করোনা আতঙ্কে খুলনায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২০, ২২:১৮

খুলনায় গত দুই সপ্তাহ ধরে স্বাস্থ্যসেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্কে চিকিত্সকেরা রোগী দেখা প্রায় বন্ধ করে দেওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের আউটডোরে (বহির্বিভাগ) কোনো রকম প্রাথমিক চিকিত্সাসেবা দেওয়া হলেও রোগী ভর্তি করতে অপারগতা প্রকাশ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে খুলনা মহানগরীর স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শনাক্তের পর গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে খুলনায় বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা নিয়মিত রোগী দেখা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন। এ কারণে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। ইতিমধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিক রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে। চিকিত্সকের অভাবে দুরারোগ্য ক্যানসার, হূদেরাগ, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও শিশু রোগীরা পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক প্রধান শিক্ষক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তার বয়োবৃদ্ধ মাকে নিয়ে নগরীর খানজাহান আলী রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তার মায়ের  শরীরের একপাশ অবশ হয়ে গেছে, কিন্তু চিকিত্সক তড়িঘড়ি করে তার চিকিত্সা দিয়ে হাসপাতালে রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেন। এর আগে গত ৩১ মার্চ চারটি হাসপাতাল-ক্লিনিক ঘুরে বিনা চিকিত্সায় মারা যায় লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত নগরীর খালিশপুর ওব্যাট প্রাইমারি স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র রিফাত। রিফাতের নানা মো. কলিমুদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এক হাসপাতাল থেকে অপর হাসপাতাল। শুধু ঘোরাঘোরি। কেউ ভর্তি করে না। শুধু রেফার্ড করে। এভাবে ঘুরতে ঘুরতে অবশেষে                 একধরনের বিনা চিকিত্সাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে আমার নাতি রিফাত।’

একাধিক চিকিত্সক জানান, স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে না পারার প্রধান কারণ হচ্ছে দুটি। এর মধ্যে প্রথমত চিকিত্সকের ব্যক্তিগত সুরক্ষা উপকরণ (পিপিই) না থাকা এবং দ্বিতীয়ত নিয়মিত রোগী ও তার স্বজনদের সংক্রমণ প্রতিরোধক ব্যবস্থাসহ নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখতে না পারা। তবে এসব বুঝতে চাইছেন না রোগী ও তাদের স্বজনেরা। তারা চাইছেন, অতি দ্রুততম সময়ে সংক্রমণ প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও প্রাইভেট প্র্যাক্টিসে স্বাভাবিক স্বাস্থ্যসেবা পেতে। ফলে রোগীদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাইভেট হাসপাতাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ) খুলনার সভাপতি ও বিএমএর সহসভাপতি ডা. গাজী মিজানুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবার একটা ক্রান্তিকাল চলছে। জ্বর ও সর্দি-কাশিতে আক্রান্তদের সরকার নির্ধারিত হাসপাতালে স্থানান্তর করছি। তবে অন্যান্য রোগীর নিয়মিত চিকিত্সাসেবা দেওয়া হচ্ছে।’

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মো. সুজাত আহমেদ বলেন, কোনো হাসপাতালে সাধারণ রোগীর চিকিত্সা বন্ধ করা হয়নি। তবে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে করোনাভীতির কারণে হয়তো মানবিকবোধ কিছুটা কমেছে। কিন্তু সেবার মানসিকতা নিয়ে মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে চিকিত্সকদের নিয়মিত রোগীর স্বাভাবিক চিকিত্সাসেবা দেওয়া উচিত।