করোনা ভাইরাসের প্রভাবে চট্টগ্রামের মেগা প্রকল্পগুলো বন্ধ কিংবা স্থবির হয়ে পড়েছে। জাইকা কর্তৃক মাতারবাড়ি এলাকায় নির্মাণাধীন কয়লা বিদ্যুত্ কেন্দ্রের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ এক প্রকার বন্ধ রয়েছে। এ প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দেশের লোকজনের অনেকেই প্রকল্প এলাকায় থাকলেও বিপুলসংখ্যক শ্রমিকনির্ভর কর্মকাণ্ড হওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ১২০০ মেগাওয়াটের এই প্রকল্পে বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ হাজার প্রকৌশলীসহ ৬ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করে।
কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকনির্ভর প্রকল্প চালিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রায় ১ হাজার ৬০০ একর সমুদ্র উপকূলীয় জমির ওপর ১৪টি দেশের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা কাজ করছেন। জাপান, চীন ও কোরিয়ার তিনটি প্রধান কোম্পানির অধীনে অন্যান্য দেশের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা কাজ করছেন। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ গত দুই বছর ধরে চলে আসছে। কিছু দিনের মধ্যে প্রকল্পের যন্ত্রপাতি আসার কথা ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাস সংক্রমণ এবং বিশ্বব্যাপী এই দুর্যোগ কত দিন ধরে চলবে তা কেউ বলতে পারছে না। প্রকল্পের ৩৬ হাজার কোটি টাকার মধ্যে জাইকা এককভাবে ২৯ হাজার কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকার ৭ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালে প্রকল্পটি উত্পাদনে যাওয়ার টার্গেট ধরা হলেও সার্বিক অবস্থায় তা কখন সম্ভব হবে তা অনিশ্চিত।
মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের পরিচালক এবং চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম জানান, করোনা ভাইরাসের কারণে প্রকল্পের ফিজিক্যাল কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু হবে। চট্টগ্রাম শহরে সিডিএর অধীনে শাহ আমানত বিমান বন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ম্যাক্স নামক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চায়নার একটি যৌথ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে গত দুই বছর কাজ চললেও বর্তমানে করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। গত জানুয়ারি মাসে চায়নার প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাগণ দেশে গেলে আর ফিরে আসেননি। অপরদিকে ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ শ্রমঘন হওয়ায় প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। প্রকল্প পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কাজ শুরু হবে। প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা রক্ষা করা সম্ভব হবে না বলে তিনি জানান। একই সঙ্গে চায়না সরকার কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে নির্মাণাধীন টানেল প্রকল্পের কাজও আপাতত বন্ধ রয়েছে।
