অনিয়মের অভিযোগে এবার কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ বন্ধ

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২০, ১২:২০

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে অনিয়মের অভিযোগে এবার বলদিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই অভিযোগে সোমবার (৩০ মার্চ) উপজেলার বিনোদপুর খড়খড়িয়া রাস্তার নির্মাণ কাজও বন্ধ করে দেন প্রকৌশল অধিদপ্তর।

এদিকে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সুযোগ নিয়ে অতি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে তড়িঘড়ি ওই কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের নির্মাণ কাজ করায় হতবাক সকলেই।

জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অর্থায়নে উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বলদিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণের দরপত্র আহবান করা হলে ৩৭ লাখ ৮৬ হাজার টাকার একতলা কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পান সিরাজগঞ্জের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইসহাক কনস্ট্রাকশন।

স্থানীয় শিহাব উদ্দিন, কায়ছার আলী, শাকিল আহম্মেদ, জ্যোতিশ মাহাতো, রজিনা খাতুন প্রমুখ অভিযোগ করেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়িয়ে চলতে লোকজন যখন খুব একটা ঘর থেকে বাইর হচ্ছেন না। সেই সুযোগে ঠিকাদার নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করতে থাকলে তারা বারবার  আপত্তি জানান। তবে তিনি তাদের আপত্তির কোন রকমের তোয়াক্কা না করেই যথারীতি সোলিং, বেজ ও গেডবিম ঢালাই করে কলাম নির্মাণ করতে থাকেন। এ কাজে তিনি মোটা বালি ব্যবহার না করে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা মাটিযুক্ত বালি, মানহীন ইটের খোয়া ও গ্রেডহীন নিম্নমানের রড ব্যবহার করেন। আর নামমাত্র সিমেন্টের ব্যবহার করেন। নিরুপায় হয়ে তারা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকে বিষয়টি অবগত করেন।

মেসার্স ইসহাক কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী ইসহাক আলী জানান, তিনি কিছুই জানেন না। তার লাইসেন্স দিয়ে কাজ করেন ময়েজ উদ্দিন নামের এক সাব ঠিকাদার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. জামাল উদ্দিন বলেন, কাজটি স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। নিয়মানুযায়ী কাজ শেষে  আমাদেরকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মোমিন বলেন, তাদের না জানিয়েই বলদিপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন ঠিকাদার। স্থানীয়দের অভিযোগ পাওয়ার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে  প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/এমআর