মানসিক প্রতিবন্ধী ও অসহায় সুফিয়া বেগম (৬৫) ঠিকানা বলতে না পারায় গত এক বছর ধরে হাসপাতালের বিছানায় পরে রয়েছেন। অনেক প্রশ্ন করার পর শুধু বলতে পারেন নাম সুফিয়া। আর কিছু বলতে পারেন না অসহায় এই সুফিয়া বেগম। হাসপাতালের স্টাফ, নার্স ও চিকিৎসকরা পরম মমতা দিয়ে তাকে চিকিৎসাসেবা এবং খাবার দিয়ে আগলে রেখেছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সরকারি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতালে) সুফিয়া বেগমের ঠাই হয়েছে।
শুক্রবার হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখা গেছে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ভয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি এই হাসপাতালে কোন রোগী ভর্তি নেই। কিন্তু দু,তলায় ১৩ নম্বর বেডে শুয়ে রয়েছেন সুফিয়া বেগম। বয়স ৬৫ হওয়ায় নড়াচড়া করতে পারেন না। কেউ কাছে গেলে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। অনেক চেষ্টা করার পরও তার মুখ থেকে কোন কথা বলানো যায়নি। এই হাসপাতালই এখন তার আপন ঠিকানা হয়েছে।
আরও পড়ুন: যৌনকর্মীরা কীভাবে মোমবাতি জ্বালবে: মোদিকে প্রশ্ন স্বস্তিকার
ওয়ার্ডে দায়িত্বরত কয়েকজন সিনিয়র ও জুনিয়র স্টাফ নার্স জানালেন, প্রায় এক বছর ধরে তিনি এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কে বা কারা তাকে এখানে চিকিৎসার জন্য রেখে যান। আর কেউ তার খোঁজ-খবর নিতে আসেননি। বয়সের ভারে কুজু হয়ে পরায় তাকে দুই-তিন জন ধরে নিয়ে টয়লেট ও গোসল করাতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও আমরা যে যার মতো পারছি তাকে সহযোগিতা করে চিকিৎসার ওষুধপত্র, জামাকাপড়সহ খাবার দিয়ে আসছি। তিনি শুধু নাম সুফিয়া বলতে পারেন। আর কোন ঠিকানা বলতে পারছেন না। অনেক সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তার স্বজনরাও তাকে সহযোগিতা করে থাকেন। অসহায় এই সুফিয়া বেগমকে নিয়ে বিপাকে পরেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ডা. মাকসুদা খানম বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে অসহায় ও মানসিক প্রতিবন্ধী সুফিয়া বেগম হাসপাতালে রয়েছেন। তিনি শুধু নাম ছাড়া আর কোন কিছু বলতে পারেন না। প্রায় এক বছর ধরে তাকে হাসপাতালের সকল চিকিৎসক, সিনিয়র ও জুনিয়র স্টাফ নার্স পরম মমতা দিয়ে চিকিৎসাপত্রসহ খাবার ও দেখাশোনা করে আসছেন। তাকে খুঁজে পেতে ও সার্বিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছেন এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ইত্তেফাক
