/ বিশ্বজিত্ দাস
তুই বলছিস স্টক করে রাখব? জানতে চাইল সুজা। তবে আর বলছি কী! চাল ডাল তেল, চিনি, চা ইত্যাদি যা যা দরকার বেশি করে কিনে রাখ। এরপর দাম বেড়ে যাবে। টাকা না হয় পরে দিবি। তুই তো আর পালিয়ে যাচ্ছিস না! বলল জামিল। সুজার স্কুলজীবনের বন্ধু।
‘এভাবেই সবকিছুর দাম বাড়ে। পাবলিক হুদাই সবকিছু স্টক করে রাখে।’ মনে মনে বলল সুজা। তারপর জামিলকে বলল, টাকা সাথে এনেছি। তুই আমাকে একবস্তা মিনিকেট চাল, বিশ কেজি ডাল, সয়াবিন তেল দশ লিটার দে। আরো কী কী লাগবে তার ফিরিস্তি দিল ও।
এরমাঝেই ফোন এলো জামিলের।
—আসসালামুলায়কুম খালা। কেমন আছেন?
—বলেন খালা।
—চাল, ডাল তেল, চিনি... লাগবে। বুঝছি খালা। কিন্তু দোকানে লোক নেই খালা। করোনার ভয়ে কর্মচারীরা ঠিকমতো আসছে না।
—দেখি খালা, লোক পেলে আমি মালগুলো পাঠিয়ে দেবো। চিন্তা করবেন না।
একটু পর মোবাইল রেখে সুজার দিকে হাসিমুখে তাকাল জামিল। দেখলি তুই যেসব মালামাল নিচ্ছিস সেগুলো নেওয়ার জন্য ঝিলিক খালা ফোন করেছিল। খালার কথা তোর মনে আছে?
মাথা ঝাকাল সুজা। ছোটবেলায় উনার বাসায় কত গিয়েছি তোর সাথে। উনি তো ঢাকায় ছিলেন।
ছিলেন। এখন আবার বাবার বাসায় এসেছেন। এখন এখানেই থাকেন। একদিন যেয়ে দেখা করে আসিস।
দেখি। বলল সুজা।
বাজারের মাঝ দিয়ে ফেরার সময় আদিল ভাইয়ের সাথে দেখা হয়ে গেল। তার আছে চালের দোকান।
কী সুজা, কেমন আছো?
ভালো আছি। আপনি?
আর ভালো থাকা। আমরা কম দামে চাল বিক্রি করলেও নাও না। বেশি দামে বন্ধুর দোকান থেকে চাল কিনে নিয়ে যাচ্ছ!
বিব্রতবোধ করল সুজা। না না, জামিল আমার কাছ থেকে দাম বেশি নেয় না।
হাসল আদিল। নেয় না। এই যে চালের বস্তা কত নিয়েছে? বল বল।
আদিলের জোরাজুরিতে দাম দেখল সুজা। সাইত্রিশ শ।
দেখলে! যে চাল আমি আঠাশ শ টাকায় বিক্রি করছি, সেই চাল জামিল তোমার কাছে সাইত্রিশ শ টাকায় বিক্রি করে। একেই বলে গলাকাটা। একই বাজারে একবস্তা চালে নয়শ টাকা বেশি!
সব বাজার অটোতে উঠিয়ে থম মেরে বসে থাকল সুজা। ব্যবসায়ী সবসময়ই ব্যবসায়ী। এরা বন্ধুরও গলা কাটে।
স্যার, কোথায় যাব? অটোওয়ালা তাড়া দিল।
কী মনে করে ঝিলিক খালার বাসার ঠিকানা দিল সুজা। আজ সেরের উপর সোয়া সের হোক।
ঝিলিক খালাকে বাজার পৌঁছে দিয়ে টাকাটা নিতে হবে। তারপর সে টাকায় আদিল ভাইয়ের দোকানে চাল কিনলেই নয়শ টাকা খুব সহজেই পকেটে ফিরে আসবে।
নয়শ টাকা অনেক। বাকি বাজারটা সেটা দিয়েই করে ফেলা যাবে।
ঝিলিক খালা ওকে দেখে অনেক খুশি হলেন।
বাব্বাহ! কতদিন পরে দেখা হলো।
ছেলে-মেয়ে কয়টা তোর? কোথায় বিয়ে করেছিস? বউ কী করে? এরকম হাজারটা প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে চা বিস্কুট খেলো ও।
তারপর অনেক কাজ পড়ে আছে, এমন ভাব নিয়ে উঠে দাঁড়াল।
খালা আজ আসি।
দুপুরে খেয়ে যা।
আরেকদিন এসে খাবো। এখন টাকাটা দাও। নিয়ে চলে যাই।
কীসের টাকা?
কেন! বাজার এনে দিলাম। সেটার ফর্দতে দেখেন কত টাকা হয়েছে।
ঝিলিক খালা হাসলেন। জামিল তোকে কি আমার কাছ থেকে টাকা নিতে বলেছে?
না। মানে আমি ঠিক বুঝতে...।
বুঝতে পারছিস না তো। আরে আমরাই ওর কাছে একলাখ টাকা পাই। ব্যবসার জন্য ধার নিয়েছিল। ফেরত দেবার নাম নেই। সেজন্য তো আসে না হারামজাদাটা। ও জন্যেই তোর হাতে বাজারটা পাঠিয়েছে, বুঝলি?
এক কথাতেই সুজা মনের আশা নামক বেলুনটা ফুটো করে দিলেন ঝিলিক খালা। g‑
