পাবনা ১: নৌকা এগিয়ে, ঐক্যফ্রন্ট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী নিয়ে বিভক্ত ভোটাররা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৬:৩৯

উত্তর জনপদের ঐতিহ্যবাহী জেলা পাবনা। পাবনার রাজনীতি পরিচালনায় স্টিয়ারিং সাঁথিয়া-বেড়ার বর্ষীয়ান নেতাদের হাতে। সাঁথিয়া উপজেলা ও বেড়া (আংশিক) ৬৮ পাবনা-১ আসনটি ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত স্বাধীনতার পর থেকে। আসন্ন ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ১০ জন এমপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ নির্বাচন কমিশনে। আর মাত্র এক দিন ভোটের বাকি। ভোটের মাঠে নৌকা এগিয়ে থাকলেও দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ছে বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকরা।

এ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন যুদ্ধাপরাধী মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মাওলারা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আপেল প্রতীকও তিনি পান। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তাকে ভোটের মাঠে এখনও দেখা যায়নি। প্রচলিত রয়েছে অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করায় মোমেন নিজেকে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেও ক্ষিপ্ত হয়ে মনোয়ন পত্র সংগ্রহ করেনি।

নির্বাচনে আপেল মার্কা প্রতীকে নাজিবুর রহমান ভোট না চাইলেও অনেক সমর্থক তার আপেল মার্কায় ভোট দিবেন বলে বলছেন। তাদের দাবি ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে আমরা কখনোই জামায়াতের ভোট দিতে পারি না। সে অতীতে আওয়ামী লীগে ছিল। এখন ঐক্যফ্রন্টে এলেও আমাদের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

এদিকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ড. অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত বললেও ভোটের মাঠে তার প্রভাব নেই। প্রচারণায় সব সময় তুঙ্গে ছিলেন নৌকার প্রার্থী ও সমর্থকরা। নির্বাচনী গণসংযোগের সময় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ছিল আবু সাইয়িদের। শেষ মুহূর্তে এসেও পাড়া মহল্লায় ধানের শীষের পোস্টার, ব্যানার বা মিছিল চোখে পড়েনি। তবে অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে স্বল্প সংখ্যক স্থানে নির্বাচনী মিটিং করছে অতি গোপনে। ভোটের মাঠে ধানের শীষ নিয়ে সাড়া জাগাতে পারেনি আবু সাইয়িদ।

এরমধ্যে উপজেলা ব্যাপী বিএনপি জামায়াত দল থেকে আওয়ামী লীগে যোগদানের হিড়িক পড়েছে। প্রতি দিনই ওই দুটি দলের নেতা ও সমর্থকরা আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। 

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলা রঘুরামপুর, হাসানপুর গ্রামের শতাধিক বিএনপি জামায়াতের নেতা-কর্মীরা স্থানীয় চেয়ারম্যান মুনসুর আলী পিনছু ও কার্তিক সাহার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগদান করছে। একইভাবে সারা উপজেলাব্যাপী রয়েছে যোগদানের এমন চিত্র।

আওয়ামী লীগের মনোনীত দুইবার নির্বাচিত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান এমপি এ্যডঃ শামসুল হক টুকুর প্রচারণা জমজমাট। কাক ডাকা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত গানের তালে তালে হাট বাজার গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া, মহল্লাসহ সর্বত্র প্রচারণা চলছে। এছাড়া সড়ক, মহাসড়ক ও গ্রামাঞ্চলের কাঁচা রাস্তায় ঝুলানো হয়েছে নৌকা মার্কার পোস্টার। নৌকার পোস্টারে ছেয়ে গেছে পাড়া ও মহল্লা। ইউনিয়নভিত্তিক ভাগ করে চলছে পাড়া ও মল্লায় নির্বাচনী প্রচারণা। প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিনিয়ত চলছে নৌকার উঠান বৈঠক।

উপজেলাব্যাপী নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা নির্বাচন উৎসবে মেতে উঠেছে। এ আসনে ১০ জন প্রার্থী থাকলেও মুলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের তিনবারের সংসদ সদস্য সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী সদ্য গণফোরাম থেকে আসা ঐক্যফ্রন্টের মনোনীত ধানের শীষ মার্কার প্রার্থী ড. অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দুইবারের নির্বাচিত নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বর্তমান এমপি এ্যডঃ শামসুল হক টুকুর।

সাধারণ ভোটাররা বলেন 'দীর্ঘসময় ধরে শামসুল হক টুকু সুখে-দুঃখে আমাদের পাশে ছিলেন। তিনি এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। তাই আমরা নৌকা মার্কায় ভোট দিবো।'

আরও পড়ুনঃ চন্দনাইশে কর্নেল অলির পিএসসহ গ্রেফতার ১২

এ আসনে অন্যরা হলেন, মুসলিমলীগের ডাঃ শফিকুল ইসলাম, জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান, জাতীয় পার্টির সরদার শাহজাহান, ন্যাশনাল পিপল্স পার্টির (এনপিপি) শাখাওয়াত হোসেন, ওয়ার্কাস পার্টির নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মুফতি আব্দুল মতিন ও গন সংহতির জুলহাস নাঈন, তরিকত ফেডারেশনের শরিফুল ইসলাম।

ইত্তেফাক/নূহু