অবশষে বন্ধ থাকছে পোশাক কারখানা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ০০:৫০

অবশেষে পোশাক কারখানা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধই থাকছে। দিনভর নানা নাটকীয়তার পর গতরাত প্রায় সাড়ে দশটায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানা গেছে। রাতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক এক অডিও বার্তায় বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ১১ তারিখ পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন।  এর পর বেশ কয়েকজন কারখানা মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  তারা কারখানা আপাতত বন্ধই রাখবেন।

এদিকে বিজিএমইএর পর কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অপর সংগঠন বিকেএমইএও। গতরাত ১২ টায় সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম ইত্তেফাককে বলেন, সরকারি ছুটির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিকেএমইএভুক্ত কারখানাও ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে এর মধ্যেই শ্রমিকরা দলে দলে বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকার পথে ছুটে এসেছেন।  গণপরিবহন বন্ধ থাকায় অনেকে পায়ে হেঁটেই মাইলের পর মাইল পাড়ি দিয়েছেন। এ কারণে ভিড় বেড়েছে নৌঘাটেও। করোনা ভাইরাসের এ দুর্যোগ পরিস্থিতিতে কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও আলোচনা সমালোচনা তৈরি হয়। কেননা করোনা পরিস্থিতিতে বর্তমানে সবাইকে ঘরে থাকতে বলা হয়েছে। এ কারণে সরকার ছুটি  ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এরই মধ্যে দলে দলে মানুষের ঢাকামুখী স্রোত করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। অন্যদিকে কারখানা চালু রাখা হলেও শ্রমিকরা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেহেতু কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হবে, তা আরো আগেই হওয়া উচিত ছিল।  সময়মতো এ সিদ্ধান্ত হলে শ্রমিকরা হয়তো এ বিড়ম্বনার  মুখে পড়তেন না। অন্যদিকে রাস্তা আর নৌ পথেও এত ভিড় বাড়তো না।

এদিকে বিজিএমইএ সভাপতি বলেছেন,  যেকোনো পরিস্থিতিতে শ্রমিকরা মার্চ মাসের বেতন পাবেন। এছাড়া বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিতে না পারলে, মানবিক বিবেচনায় তাদের চাকরিচ্যুত না করতে মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

এসময়  তিনি বলেন, এখন কোনো ব্যাংক কারখানা মালিকদের টাকা দিতে চাইছে না। এ অবস্থায় কোনো কারখানার বেতনের অর্থ পরিশোধে চার-পাঁচদিন দেরি হলেও তা মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। 

অবশ্য কারখানা বন্ধ রাখার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় অবহিত নয় বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আলী আজম। গতরাত ১১টায় ইত্তেফাককে তিনি বলেন, আমি খবরটি কেবলই জানলাম। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।

হয়রানির চরম, দুর্দশা নির্মম

পোশাক শিল্প মালিকদের নির্দেশনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শ্রমিকরা শনিবার ঢাকা ফেরার পথে পদে পদে ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। গণপরিবহন বন্ধ থাকায় কিছু পথ ট্রাক-লড়িতে গাদাগাদি হয়ে কিছু পথ হেঁটে ঢাকায় পৌঁছান তারা। দুর্ভোগ শেষ হয়নি সেখানে। করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় এ শ্রমিকদের অনেককেই ভাড়া বাসায় উঠতে দেননি বাড়ির মালিকরা। অসহায় শ্রমিকদের অনেককেই এ নিয়ে দেনদরবার কাটাতে হয়েছে। কেউ বাসায় উঠেছেন। আবার অনেকে ব্যর্থ হয়ে পরিচিতজনদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন। যাদের এ দুইটির কোনো ব্যবস্থাই হয়নি তাদেরকে আবার রাতে ট্রাকে করে গ্রামের বাড়ির পথে রওয়ানা দিতে হয়েছে। এদিকে গতকাল রাতে বিজিএমইএ ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পোশাক শিল্প বন্ধ রাখতে বলার পর শ্রমিকরা আরেক দফায় বিপাকে পড়েছেন। আসা যাওয়ার ভোগান্তিতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে যাতায়াতের খরচ মেটাতে গিয়ে স্বল্প আয়ের মানুষ আর্থিক ক্ষতিতেও পড়েছে।