চট্টগ্রাম বন্দরের পণ্য ডেলিভারিতে গতিশীলতা ফিরে আসছে। গত ২৬ মার্চ থেকে সরকার দেশব্যাপী ছুটি ঘোষণার পর কয়েক দিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে পণ্যবাহী কনটেইনার ডেলিভারি ন্যূনতম পর্যায়ে পৌঁছায়। এতে করে বন্দরে কনটেইনারের স্তূপ পড়ে যায়। বিশেষ করে কাস্টমস শুধু জরুরি চিকিত্সাসামগ্রী এবং খাদ্য পণ্য ছাড়া বাকি সব পণ্যের শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ রাখে। একই সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কারখানাসমূহ বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ আমদানিকারকদের পণ্য জাহাজ থেকে নেমে চট্টগ্রাম বন্দরে জেটিতে স্তূপ করা হয়। তাছাড়া সাধারণ ছুটি থাকায় পূর্বে শুল্কায়ন করা পণ্যও ২৬ মার্চের পর ডেলিভারি নেওয়া থেকে বিরত থাকে আমদানিকারকগণ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ৩০ মার্চ জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এক সার্কুলারের মাধ্যমে কাস্টমসকে শিল্পের কাঁচামালও শুল্কায়ন করার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে বন্দর শিল্প মালিকসহ আমদানিকারকদের তাদের পণ্য দ্রুত ডেলিভারি নেওয়ার অনুরোধ জানায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ থেকেই কাস্টমস সরকারি আমদানি পণ্য, চিকিত্সাসেবা পণ্য এবং খাদ্যপণ্যের সঙ্গে সঙ্গে শিল্পের কাঁচামালও শুল্কায়ন শুরু করে। একইভাবে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, লরি, ট্রেলারসহ পরিবহন কর্মকাণ্ড কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আমদানিকারকগণও তাদের পণ্য ডেলিভারি নেওয়া শুরু করে। এতে করে দেখা যায়, গত ২৬ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত যেখানে প্রতিদিন বন্দর থেকে গড়ে ৫০০ কনটেইনার ডেলিভারি হতো পরবর্তী সময় তা বাড়তে থাকে। গত দুই দিনের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ডেলিভারির পরিমাণ ২ হাজার ছাড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার বন্দর থেকে ডেলিভারি হয়েছে ২ হাজার ১৮টি এবং শুক্রবার ডেলিভারি হয়েছে ২ হাজার ১০০ কনটেইনার। অবশ্য স্বাভাবিক অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারির পরিমাণ ছিল ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ পর্যন্ত। গতকাল শনিবার চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে কনটেইনারের পরিমাণ ছিল ৪৩ হাজার ৭৭১টি। এই সংখ্যাও স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি বলে জানা যায়। স্বাভাবিক সময়ে বন্দরের জেটিতে কনটেইনার থাকে ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পর্যন্ত। চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) এনামুল করিম জানান, আগামী কয়েক দিন পণ্যবাহী কনটেইনারের ডেলিভারি কিছুটা বাড়লে বন্দরের ওপর চাপ কমে যাবে।
এদিকে জানা যায়, আজ রবিবার থেকে গার্মেন্টসসমূহ চালু হলে ডেলিভারির পরিমাণ আরো বেড়ে যাবে। বিজিএমইএ-এর সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, কাস্টমসের সব কর্মকর্তা এবং পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি হলে বন্দর থেকে কনটেইনার ডেলিভারি আরো অনেক বাড়বে। তাছাড়া ব্যাংকগুলোও পুরোপুরি সচল হওয়ার সঙ্গে পণ্য ডেলিভারির বিষয়গুলো জড়িত রয়েছে বলে বিজিএমইএ সংশ্লিষ্টরা জানান।
