নারী টি-২০ বিশ্বকাপ
জান-ই-আলম
বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে সিরিজ চলাকালীন গত ৪ মার্চ নিভৃতেই দেশে ফিরেছিল বাংলাদেশ জাতীয় নারী ক্রিকেট দল। অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে শূন্য হাতে ফিরে সালমা বাহিনী। চার ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা।
করোনা ভাইরাসের কারণে স্থবির এখন দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। বিশ্বকাপে নারী দলের কোনো ম্যাচ না জেতার বিষয়টি করোনার থাবায় আড়ালে পড়ে যায়। যদিও বিশ্বকাপে জয়ের খাতা খোলার মিশনে অনেক স্বপ্ন-আশা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গিয়েছিল নারী দল। মাঠের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ভারতের মতো শক্তিশালী দলের কাছে সালমাদের হেরে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বরং নিউজিল্যান্ডকে বাগে পেয়েও হারাতে না পারাটা হতাশার ছিল। টানা তিন হারের ধকল নিয়ে খেলতে নেমে শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার সামনে যেন আরো ভেঙে পড়ে গোটা দল। অথচ অন্তত একটি জয় পেতে এই লঙ্কানদেরই পাখির চোখ করেছিল নারী দল।
দৃশ্যত, এটাই বাংলাদেশ নারী দলের বিশ্বকাপ পারফরম্যান্সের যৌক্তিক ব্যবচ্ছেদ, বিশ্লেষণ। কিন্তু দলের ভরাডুবির পেছনে এর বাইরেও পর্যবেক্ষণ আছে।
বিসিবির বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, দলের ভেতর আবারও গজিয়ে উঠেছে ‘গ্রুপিং’ নামক ভাইরাস। তাতেই দলটা কাবু হয়ে গেছে। সঙ্গে যোগ হয়েছে বিশ্বকাপ জুড়ে হেড কোচ আঞ্জু জৈনের সঙ্গে অধিনায়ক সালমা খাতুনের ‘শীতল’ লড়াই। বেশ কিছু সিদ্ধান্তে কোচের পছন্দের সঙ্গে একমত হতে পারেননি সালমা।
তাতেই দূরত্ব বেড়েছে দুই জনের মধ্যে। যেমনটা প্রথম ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে রুমানা আহমেদকে ৮ নম্বরে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়েছেন ভারতীয় এই কোচ। যেখানে অধিনায়কের সমর্থন ছিল না। রুমানার মতো অভিজ্ঞ কাউকে এত নিচে পাঠানোর সিদ্ধান্ত মানতে পারেননি তিনি। রুমানা ১৩ রান করেছিলেন ঐ ম্যাচে। যদিও পরের তিন ম্যাচে রুমানা খেলেছেন ৬ নম্বরে। কোচ-অধিনায়কের দূরত্ব দলের মিশনকে ক্রমশই কক্ষচ্যুত করেছিল।
বেশ কয়েক বছর আগে নারী দলে গ্রুপিংয়ের খবর গণমাধ্যমে এসেছিল। তারপর শোনা যায়নি অনাহূত এই বিষবাষ্পের খবর। এবার বিশ্বকাপের পর সেটি আবারও সামনে উঠে এসেছে। এটিকে ধরা হচ্ছে বিশ্বকাপে ব্যর্থতার বড়ো কারণ। জানা গেছে, দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে অবলম্বন করেই তৈরি হয়েছে গ্রুপিং।
বিসিবি সূত্র জানায়, ‘কিছু কিছু ঝামেলা তো আছেই। দলের মধ্যে গ্রুপিং কিন্তু কমে গিয়েছিল। এখন দলের মধ্যে এটা আবারও তৈরি হয়েছে। এটাও একটা বড়ো কারণ।’
বিশ্বকাপে দলের সঙ্গেই ছিলেন উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারম্যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। নারী দলের ভেতর গ্রুপিং, কোচ-অধিনায়কের দূরত্ব নিয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্যই করতে রাজি হননি বিসিবির এই পরিচালক।
তবে বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্সে হতাশ নাদেল। ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান, ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার জন্য বসবেন তিনি। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলেই এই মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। গতকাল নাদেল বলেছেন, ‘অবশ্যই পারফরম্যান্সসহ বিষয়গুলো আমাদের বিবেচনায় আছে। আমাদের চিন্তা ছিল নতুন করে বসে ঠিক করবো।’
