রামেকের আউটডোরে রোগী কম, ডাক্তারও কম

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২১:৪৫

করোনা আতঙ্ক

স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী

করোনা আতঙ্কে প্রায় রোগীশূন্য হয়ে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের সর্ববৃহত্ চিকিত্সা সেবা প্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের আউটডোর। কেবল হাসপাতালের আশপাশের এলাকার হাতেগোনা রোগীরা সেবা নিচ্ছে। চিকিত্সকের উপস্থিতিও আগের তুলনায় অনেক কম। রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, সবকিছু স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যানবাহন চলাচল না করায় শহরের বাইরের রোগীরা আসতে পারছে না। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে ৯৫ শতাংশ রোগী কম আসছে বলে একাধিক গোয়েন্দা সূত্র নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, এই হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক প্রবেশ নিষিদ্ধ।

করোনা সতর্কতায় শহরের উপকণ্ঠ এবং উপজেলা পর্যায় থেকে রোগী আসছে না। ফলে রোগী কমেছে রামেক হাসপাতালের আউটডোরে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে নানা ধরনের অসুস্থতা নিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২/৩ হাজার রোগী ভিড় জমান এখানে। বিশেষ করে দরিদ্র শ্রেণির রোগীদের ভরসা আউটডোর। কিন্তু এখন একেবারেই পালটে গেছে বাস্তব চিত্র। করোনার কারণে হঠাত্ করেই থমকে গেছে রোগীদের ভিড়। জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিতে এখানে আসছে নগণ্য সংখ্যক রোগী।

নগরীর উপকণ্ঠ রায়পাড়ার রোগী রাজু আহমেদ জানান, তার শিশু সন্তানের চিকিত্সায় এসেছিলেন। কিন্তু হাসপাতালে এসে চিকিত্সকের দেখা পাননি। হড়গ্রাম থেকে চিকিত্সার জন্য আসা রোজিনা বেগম বলছিলেন, তিনি হাতের ব্যথা নিয়ে এসেছেন। তিনি এক্স-রে করেছেন। চিকিত্সকের দেখাও পেয়েছেন। ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। তবে করোনা পরিস্থিতিতেও দরিদ্র রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখতে রামেক ও হাসপাতাল যৌথভাবে কাজ করছে। বাতিল করা হয়েছে চিকিত্সক ও টেকনিশিয়ানদের ছুটিও। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী জানান, কোনো রোগীই যেন চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে না যায় সেজন্য সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। কলেজের চিকিত্সকরা আন্তরিক সহযোগিতা করছেন। সীমিত পরিসরে আউটডোরে চিকিত্সা সেবা চলছে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস মো. খায়রুল আতাতুর্ক বলেন, বর্তমানে প্রায় ৯০ শতাংশ কম রোগী আসছেন আউটডোরে। গড়ে প্রতিদিন অন্তত ৪ হাজার রোগীর আসতেন আউটডোরে। কিন্তু করোনার কারণে এখন গড়ে মাত্র ৪০০ রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তবে অনেকেই হাসপাতালের হটলাইনে ফোন করে স্বাস্থ্যসেবা নিচ্ছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনায় আউটডোর প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকছে। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে উপপরিচালকের দাবিকৃত রোগীর সংখ্যা পাওয়া যায়নি। আউটডোর এবং ইনডোরে প্রতিদিন গড়ে সর্বোচ্চ ১৫০-২০০ রোগী আসছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।