গাজীপুরে গতকাল চালু ছিল কিছু কারখানা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:০৪

শ্রমিকদের বিক্ষোভ

গাজীপুর প্রতিনিধি

১০ দিন ছুটি কাটিয়ে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও গতকাল রবিবার সকালে গাজীপুরের কিছু পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের কাজে ফিরতে দেখা গেছে। আবার কিছু কারখানা গতকালও খোলেনি।

ছুটি বাড়ানোর পরও কারখানা কিছু শ্রমিক নিয়ে চালু রাখায় রবিবার সকালে শ্রীপুরের গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ী প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদিও ছুটিতে যাওয়া এ শ্রমিকদের চাকরি না হারানোর এবং বেতন প্রদানেরও আশ্বাস দিয়েছেন বিজিএমইএ নেতারা।

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় প্যারামাউন্ট কারখানার অপারেটর জুয়েল মিয়া জানান, নয় বছর ধরে কাজ করছি। করোনার জন্য ১০ দিনের ছুটিতেও এ কারখানা চলেছে। ছুটি কাটিয়ে গতকাল কাজে যোগ দিতে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, ছুটির মধ্যেও যারা কারখানায় কাজ করেছে তারাই এখন কাজ করবে, অন্যরা চলে যাও।

একই কারখানার হেল্পার ওমর ফারুক জানান, ২৬ মার্চ মাইকে ঘোষণা দিয়ে ছুটি দেয়। সে মতে কাজ না করে ছুটিতে যাই। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কিছু শ্রমিককে ফোনে ডেকে নিয়ে ছুটির সময়ও তারা কাজ চালিয়েছে। যারা ছুটিতে গেছে তাদের গতকাল কাজে যোগ দিতে দেয়নি। বাইরে তালা দিয়ে ভেতরে কাজ চলছে। এমতাবস্থায় বেতন না দিয়ে তারা ছাঁটাই আতঙ্কে ভুগছেন বলেন তিনি।

এসবের প্রতিবাদে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন এবং পাশের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেয়।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ওই কারখানা চলেছে। কিন্তু অধিকাংশ শ্রমিককেই ফোনে না জানিয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির নোটিশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে কারখানার ভেতরে কিছু লোক মেন্টেইনেন্সের কাজ চালালেও তাতে উত্পাদন কাজ বন্ধ ছিল। কিন্তু আগের সিদ্ধান্ত মতে রবিবার সকালে কাজে যোগ দিতে না দেওয়ায় শ্রমিকরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

গাজীপুর সদরের হোতাপড়া এলাকায় এনার্জিপ্যাক ফ্যাশন লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপক মো. সফিকুল ইসলাম রাজীব জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সব ব্যবস্থা রেখেই আমরা কারখানা (অর্থাত্ নিরাপদ দূরত্ব, তাপমাত্রা মাপা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া) চালু রেখেছি। আগের ১০ দিন বন্ধ ছিল। যেগুলোর ক্রয়াদেশ আছে আমরা সেগুলোর কাজ করছি। এখনো জার্মানির মার্কেট খোলা আছে। কারখানা বন্ধ রাখলে জার্মানিতে আমাদের অর্ডারগুলো বাতিল হয়ে যাবে। তাই আমরা উত্পাদন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের জনবল সাড়ে ৪ হাজার। সবাই নিরাপদে কাজ করছে।

এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি ও বিজিএমইএর সদস্য মো. আবদুস সালাম মোর্শেদী জানান, পোশাক শ্রমিকদের সবেতনেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাদের বেতনের কোনো সমস্যা হবে না। আশুলিয়া এলাকায় কারখানার মালিকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। এতে ১২-১৫ এপ্রিলের মধ্যে বেতনভাতা প্রদানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কারখানায় করোনা সংক্রমণ রোধে সব সতর্কতা ও প্রতিরোধী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সোয়েটার কারখানায় বিক্ষোভ

টঙ্গী (গাজীপুর) সংবাদদাতা জানান, বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ১১ এপ্রিল পর্যন্ত তৈরি পোশাক কারখানা বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। গতকাল সকালে বেতনভাতা পরিশোধ না করে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সংবাদ পেয়ে গাজীপুরের টঙ্গীর গাজীপুরা শালিকচূড়া এলাকার ওরিয়েন্ট এলিউর নিট ওয়ার লি. নামক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন।