আয়শা আক্তার নিশু
বিশ্ব জুড়ে কোভিড-১৯ (করোনা) ভাইরাস মহামারিরূপে আবির্ভূত হয়েছে। যদিও বাংলাদেশে এখন অবধি করোনার থাবা সীমিত পর্যায়ে রাখা গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনা ইতিমধ্যে আমাদের সামগ্রিক জীবনধারায় প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে। অদৃশ্য এই দানব মানবজাতিকে একপ্রকার স্থবির করে ফেলেছে, বিশ্ব জুড়ে অর্থনৈতিক এবং রাজনীতিক সব প্রতিযোগিতা হঠাত্ থেমে গেছে। উন্নত দেশগুলো তাদের সব ধরনের প্রস্তুতি তুলে ধরেছে করোনা মোকাবিলায়।
বাংলাদেশও এর বাইরে নয়, বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে করোনা মোকাবিলায় অনেকগুলো পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে চলছেন। আমাদের বিপুল জনগোষ্ঠী, স্বল্প সম্পদ এর সঙ্গে যোগ হয়েছে অসচেতনতা, অশিক্ষা এবং ধর্মান্ধতার প্রভাব যা ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে। বলা হয়—এই অঞ্চলের জনসাধারণ স্বভাবতই ঝুঁকিতে থাকতে পছন্দ করে, ইতিমধ্যে তা আমরা দেখতে পাচ্ছি, গুজব, ধর্মান্ধতা, অসচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা ব্যাপক আকারে প্রকাশ পাচ্ছে।
সরকারি, বেসরকারি এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সবাইকে কিছু প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে করোনা মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে। করোনার দীর্ঘমেয়াদি নানারকম প্রভাব স্থায়ী হতে পারে। আমাদের সামাজিক ব্যবহারে করোনা সচেতনতার ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে বলা যায়, মানুষ ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিছন্নতা নিয়ে আগের থেকে বেশি সচেতন হতে পারে। ব্যক্তিগত পরিছন্নতা, সুষম খাদ্য নির্বাচন, নিয়মকানুন মেনে চলা আমাদের জীবনে ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। করোনা প্রতিরোধের সচেতনতার অংশ হিসেবে হ্যান্ডশেক, কোলাকুলি করাকে নিরুত্সাহিত করা হচ্ছে, এগুলো আমাদের সামাজিক আচারের অংশ, করোনা-পরবর্তী সময়ে এগুলো কীভাবে ফিরে আসে সেটাও ভাবার বিষয়। সর্বোপরী করোনা আমাদের এক নতুন পৃথিবীর সন্ধান দিতে পারে, প্রকৃতি এবং মানবিকতাকে এড়িয়ে যে বিশ্ব চলতে পারে না ইতিমধ্যে করোনা আমাদের দেখিয়েছে। সবকিছু ছাপিয়ে জেগে উঠছে মানবিকতা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে জনসচেতনতা ও সাহায্যমূলক পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে। আশা করছি, করোনা-পরবর্তী পৃথিবী এক নতুন মানবিক পৃথিবী হবে, পৃথিবী মানবিকতায় ভরে উঠুক।
n লেখক :সমাজবিজ্ঞান বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
