চট্টগ্রামে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ, ক্লিনিক ফাঁকা

আপডেট : ০৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৩৬

সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারির পর চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিত্সাসেবা নিয়ে রোগীদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নগরীর এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হাজারো ডাক্তারের প্রাইভেট চেম্বার রয়েছে। কিন্তু ডাক্তারের চেম্বারগুলো এখনো বন্ধ রয়েছে। রোগীরা এসে চিকিত্সা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছে। মেডিসিন, কার্ডিওলজি, কিডনি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ক্লিনিকগুলো সার্জারি ও প্রসূতি রোগীদের ভর্তিকে অগ্রাধিকার দিলেও অন্য রোগে আক্রান্ত রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক ক্লিনিকে কলেও আসছেন না। ক্লিনিক মালিকদের অভিযোগ, তারা চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পিপিইসহ কোনো নিরাপত্তা উপকরণ সরকারের কাছ থেকে পাচ্ছেন না।

নগরীর নামি দামি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বর্তমানে প্রায় ফাঁকা। একটি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ২০ থেকে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের প্রাইভেট চেম্বার রয়েছে। অনেক ডাক্তারের চেম্বার সকালবেলায়ও খোলা থাকে। এখন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীদের কোনো ভিড় নেই। করোনা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কের        কারণে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা চেম্বারে আসছেন না। এতে নিয়মিত রোগীর চেয়ে যারা দীর্ঘদিন যাবত্ কোনো চিকিত্সকের অধীনে চিকিত্সা নিচ্ছেন, তারা সমস্যায় পড়েছেন। এসব জটিল রোগী ফলোআপ চিকিত্সা নিতে পারছেন না। আর জ্বর, সর্দি, কাশি নিয়ে কোনো রোগী এলে চিকিত্সা তো একেবারেই মিলছে না।

নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআর, সেভরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ম্যাক্স হাসপাতাল, মেট্রোপলিটন হাসপাতাল, ন্যাশনাল হাসপাতাল, রয়েল ও বেল ভিউ হাসপাতালে খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের চেম্বার রয়েছে, যেগুলো সবই এখন  বন্ধ। আবার ক্লিনিক মালিকেরা জানান, রোগী ভর্তি করে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের কল দিলেও তারা আসছেন না। তারা বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো রোগী আসছে না। সরকারের নির্দেশের কারণে তারা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখেছেন। নার্স ও ওয়ার্ডবয়রা ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে ৫ থেকে ১০ জনের বেশি রোগী ভর্তি নেই। যারা চিকিত্সাধীন ছিলেন, তারাও সংক্রমণের ভয়ে রিলিজ নিয়ে বাড়ি চলে গেছেন। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক মালিক সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কাসেম ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমাদের সমিতিভুক্ত ৬০-৬৫টি প্রতিষ্ঠান সবই খোলা রয়েছে। তবে কোনোটিতে দুই-তিন জন রোগী আবার কোনোটিতে ১০ জনের বেশি রোগী ভর্তি নেই। তার পরও আমরা খোলা রেখেছি। রোগী বা চিকিত্সক না এলে আমরা তো তাদের বাধ্য করতে পারি না। চিকিত্সক ও রোগী সবার মধ্যেই আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরকারিভাবে আমরা কোনো পিপিই, মাস্ক বরাদ্দ পাইনি। আগে চিকিত্সকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের আনা যাচ্ছে না।’

বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ইপিকে ৩০-৪০ জন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের চেম্বার রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী লোকমান কবির ইত্তেফাককে বলেন, কয়েক জন চিকিত্সক নিয়মিত চেম্বার করছেন। চিকিত্সকেরা আমাদের কাছ থেকে চেম্বার ভাড়া নিয়েছেন। এখন চেম্বার চালু রাখা তাদের নিজস্ব বিষয়। চিকিত্সক ও রোগী সবার মধ্যে ভয় কাজ করছে। যানবাহন না চলায় রোগীও আসতে পারছে না।

বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমরা টেলিমেডিসিনে চিকিত্সাসেবা দিচ্ছি। তবে বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোতে সীমিত আকারে কয়েক জন করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের চেম্বার চালু রাখা যেতে পারে।’

আইসিইউ সুবিধা নিতে ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল প্রস্তুত রাখার নির্দেশ

এদিকে চট্টগ্রামে ১২টি বেসরকারি হাসপাতালকে আইসিইউ সুবিধা প্রদানের জন্য প্রস্তুত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির স্বাক্ষরিত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, চারটি পর্যায়ে মোট ১২টি বেসরকারি হাসপাতাল তাদের আইসিইউ সুবিধা প্রদান করবে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির বলেন, যদি কোনো করোনা রোগীর আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন হয়, তাহলে এসব হাসপাতালের আইসিইউ সুবিধা ব্যবহার করা হবে।