একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (আশুগঞ্জ-সরাইল) আসনে অবশেষে শ্বশুরকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন জামাই। এই আসনে জাতীয়পার্টির প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলেন নির্বাচন দলটির চেয়ারম্যানের যুব বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সিংহ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন রেজাউল ইসলামের শশুর, বর্তমান সাংসদ ও কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জিয়াউল হক মৃধা।
নির্বাচনে দলীয় ও মহাজোটের সমর্থন নিয়ে জামাই-শশুরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে। অবশেষে মিটে গেলো অনেকদিন ধরে জিইয়ে রাখা বিরোধ।
শুক্রবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া সিংহ প্রতীকের জিয়াউল হক মৃধাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ সময় রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, 'নির্বাচনে আমাকে জাতীয়পার্টি থেকে মহাজোট প্রার্থী করা হয়েছিল। এলাকার মানুষ আমাকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু কিছু অপশক্তি মহাজোটের আসন্ন জয়কে বাধাগ্রস্ত করতে ষড়যন্ত্র করে চলেছে। সেই অপশক্তিকে ঠেকাতে হবে।'
রেজাউল আরো বলেন, 'পারিবারিকভাবে উনার (জিয়াউল হক মৃধা) সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। কিন্তু মনোনয়ন নিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাল্পনিক বিরোধ হয়েছিল। স্থানীয় জনসমর্থনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি নির্বাচন থেকে সরে গেলাম।'
জিয়াউল হক মৃধা বলেন, 'আমরা বুঝতে পেরেছি পানি কাটলে দুইভাগ হয় না। রক্ত কাটলে দুইভাগ হয় না। এ চিন্তা করেই আমরা আজ মিলিত হয়েছি। পারিবারিকভাবে আমরা মিলিত হতে পেরেছি।'
এ সময় বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের মহাসচিব অধ্যক্ষ শাহাজাহান আলম সাজু, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হান্নান রতন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন মন্তু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিক উদ্দিন ঠাকুর, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী প্রমুখ।
ইত্তেফাক/অনি/নূহু
