করোনার মত বৈশ্বিক সমস্যার এই দিনেও কিছু সুবিধাবাদী স্বার্থান্বেষী মহল উসকানি দিতে পারে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনগণকে সতর্ক করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। করোনা পরিস্থিতিতে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়কালে মঙ্গলবার তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি আরো বলেন, যারা করোনাকে পুঁজি করে গুজব রটায় তারা করোনার চেয়েও ভয়ংকর। করোনায় মানুষ আক্রান্ত হয়। আর গুজবে পুরো দেশ আক্রান্ত হয়। যারা গুজব রটায় তারা দেশবিরোধী।
গুজব সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি মেয়র আইভী করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে গুজব সৃষ্টি করা হয়। পরবর্তীতে জানা গেল এই সব গুজব। দেশের অনেক জায়গায় সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এ ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এসব গুজব সৃষ্টিকারীদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।
করোনা মোকাবিলায় সবাইকে সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলার দায়িত্বে যারা আছেন, তাদের সাহসী হতে হবে। জীবন-মৃত্যুর ভয়ে লুকিয়ে না থেকে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও বিস্তার প্রতিরোধে সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের পাশাপাশি থাকতে হবে। সরকারের দেয়া ত্রাণ কার্যক্রম যেন সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরো বলেন, মানুষ অতি উৎসাহী। পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি দেখলেই এগিয়ে আসে। তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে শক্ত হতে হবে। যারা মানবিকতার বিরুদ্ধে কাজ করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা প্রতিরোধে নিজের সাধ্যমত সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। মন্ত্রী, এমপি ও জনপ্রতিনিধিরা নিজেদের পরিবার ও জীবনকে বাজি রেখে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা প্রতিরোধে সচেতনতাই একমাত্র শক্তি।
তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি যে সব চায়ের দোকানে বেশী জনসমাগম ঘটছে সেই চায়ের দোকান গুলোর বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি বস্তিগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রাখার জন্য প্রশাসনের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও স্বল্প আয়ের মানুষ দরিদ্র মানুষ যাতে করে অনাহারে না থাকে সে বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সীমান্তবর্তী জেলা দিনাজপুরে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পারাপারের বিষয়ে সকলকে সোচ্চার থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, এই জেলার বেশিরভাগ অংশ সীমান্ত এলাকা। মহামারী আকার ধারণ করা করোনা প্রতিরোধে সরকার অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু কিছু বাংলাদেশী বিদেশে থেকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ করে নিজ নিজ এলাকায় অবাধে চলাফেরা করছে। এতে করে নিজের এবং আশপাশের পরিবারকে বিপদে ফেলছে। এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে (কাঞ্চন) দিনাজপুর জেলার করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতি এবং সার্বিক ত্রাণ কার্যক্রম বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি অ্যাডভোকেট জাকিয়া তাবসসুম জুই, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল কুদ্দুস, জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহাদ আলীসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী নিজ নির্বাচনী এলাকা বিরল ও বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে বিকেলে দুই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে ত্রাণ কার্যক্রমের খোঁজ-খবর নেন।
ইত্তেফাক/আরএ
