পুলিশের আইজি হলেন বেনজীর, র্যাবের ডিজি আল-মামুন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২২:২৩

পুলিশের আইজি হলেন র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। এ ব্যাপারে গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপ-সচিব ধনঞ্জয় কুমার দাস স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদকে পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হলো। একই আদেশে সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে র্যাবের মহাপরিচালক (ডিজি) হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বেনজীর আহমেদ হলেন দেশের ৩০তম আইজিপি। পুলিশের বর্তমান আইজি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ১৩ এপ্রিল অবসরে যাচ্ছেন। ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ হওয়ায় ১৫ এপ্রিল নতুন আইজি দায়িত্বভার বুঝে নেবেন বলে পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

বেনজীর আহমেদ ১৯৬৩ সালের ১ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন।          ১৯৮৮ সালে সপ্তম বিসিএস পরীক্ষায় পুলিশ ক্যাডারে উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি কিশোরগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ একাডেমির শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালে তিনি পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (প্রশাসন) হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি ডিএমপির প্রায় সব ক্ষেত্রেই ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া সূচনা ও সম্পন্ন করেন। মিরপুর পিওএমের সামগ্রিক আধুনিকায়ন, ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের ভবন সম্প্রসারণ, রাজারবাগের প্রশাসনিক ভবন সম্প্রসারণ, আধুনিক মিডিয়া সেন্টার স্থাপন, মোবাইল কমান্ড সেন্টার, মোবাইল ওয়াচ টাওয়ার, ডগ স্কোয়াড ও আটটি নতুন থানা স্থাপন অন্যতম। ডিএমপি কমিশনার হিসেবে তিনি ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজত বিরোধী আন্দোলন অত্যন্ত সাহসিকতা, বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার সঙ্গে  মোকাবিলা করেন।

২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি তিনি র্যাবের শীর্ষ পদ মহাপরিচালক হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। র্যাবের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন করে তিনি সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করেন। ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মোকাবিলায় তিনি সাহসী ভূমিকা রাখেন। ২০১৮ সালের মে মাসে তিনি ভয়ঙ্কর মাদক ইয়াবার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেন। সারাদেশে তরুণ সমাজ থেকে ইয়াবা দূর করতে অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াবা প্রবেশের অন্যতম রুট টেকনাফকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারে র্যাবের পৃথক একটি ব্যাটালিয়ন স্থাপন করেন যা ইয়াবা প্রতিরোধে সরাসরি ভূমিকা রাখে।