কক্সবাজারের সঙ্গে ৩৪ রোহিঙ্গা ক্যাম্প লকডাউন

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২০, ২৩:১২

বুধবার বিকেল থেকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে প্রশাসন। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত লকডাউনের আওতায় কেউ কক্সবাজারে প্রবেশ ও কক্সবাজার থেকে বাইরে যেতে পারবেন না। এ আদেশ অমান্য কারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারিওেদেয়া রয়েছে। 

কক্সবাজারের এই লকডাউনের আওতায় পড়েছে উখিয়া-টেকনাফের ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পও। সে হিসেবেই সকল কার্যক্রম চালানো হবে বলে জানিয়েছেন শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মো. মাহবুব আলম তালুকদার।  আর কক্সবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের ঘোষনা কৃত লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে কঠোর ভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, জেলা লকডাউন ঘোষনা মানে উক্ত জেলার সমগ্র ভৌগলিক এলাকা আপনাআপনি লকডাউন হয়ে যাওয়া। জেলার মাঝেই রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প পড়ায় তারাও এর আওতায় পড়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আলাদা লকডাউন ঘোষনার প্রয়োজন নেই।  জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামাল হোসেন সংশ্লিষ্ট সকল উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করে কক্সবাজারকে লকডাউন ঘোষনা দিয়েছেন।

সেনাবাহিনী এবং পুলিশের অতিরিক্ত চেকপোস্ট স্থাপনের মাধ্যমে সীমিত করা হয়েছে সকল ধরনের যান চলাচল। অতি প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও ত্রাণ সংক্রান্ত গাড়ি ব্যতীত কোন ধরনের গাড়ি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে প্রবেশ করতে দেয়া বা বের হতে দেয়া হচ্ছে না।

সেনাবাহিনীর রামু সেনানিবাস সূত্রে জানায়, আরআরআরসির স্টিকার বা লিখিত অনুমোদন ব্যতীত দেশি, বিদেশি এনজিও বা ব্যক্তিবর্গের ক্যাম্পে প্রবেশ-বাহির সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে পুরো জেলায় জরুরি পরিসেবা যেমন-চিকিৎসা, খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ এই নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে। অসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে।  

উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৫১৭ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৫২ জন। আর এপর্যন্ত ৭৬ জনের করোনা পরীক্ষা করা হয়েছে জেলায়। তাদের সবার রেজাল্ট নেগেটিভ এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইত্তেফাক/এসআই