হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। বাড়িতে কেউ না থাকায় একাই আসেন। কিন্তু তার আর চিকিৎসা হয়নি। চিকিৎসা বদলে স্থান হয় যৌনপল্লিতে। অসুস্থ অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
১ ডিসেম্বর ভারতের কলকাতা শহরে ঘটনাটি ঘটে। আর গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে বিহার থেকে উদ্ধার করা হয়।
ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, ২০ বছর বয়সী ওই তরুণী মালদহের বাসিন্দা। তার বাবা-মা মারা গিয়েছেন। স্বামীও ছেড়ে গিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন তিনি। মালদহ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলে তাকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে স্ত্রী রোগ বিভাগে পাঠানো হয়। এরপর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান।
গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় তরুণীর কাছ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে বলেছেন, হাসপাতালে তার সঙ্গে পাপ্পু নামে এক যুবকের কথা হয়। তরুণী কলকাতায় একটি থাকার জায়গা খুঁজছিলেন। কারণ হাসপাতালে তাকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। এরপর ওই যুবকের ফাঁদেই পড়ে যান তিনি।
তরুণীর সৎ ভাই জানান, ১২ ডিসেম্বর একটি অপরিচিত মোবাইল নম্বর থেকে তার বোনের ফোন পান। ফোনে শুধু বলেন যে, তাকে অপহরণ করে বিহারে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। বাঁচাতে অনুরোধ করেন।
এরপর মালদহ থানায় গিয়ে পুলিশকে ঘটনা বলেন তরুণীর সৎ ভাই। ওই তরুণীর দেওয়া তথ্যে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিহারের পশ্চিম চম্পারণ জেলার বেতিয়ার নাগরিচকের একটি তিনতলা বাড়িতে খোঁজ পায় তার। পরে পুলিশের সাহায্যে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার করা হয় তরুণীকে।
আরো পড়ুন: গোলাম মাওলা রনির ওপর হামলার অভিযোগ
তরুণী পুলিশকে জানিয়েছেন, তাকে অপহরণ করে বিহারে নিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকায় বেচে দেওয়া হয় যৌনপল্লিতে। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় নেপাল সীমান্তের কাছে বেতিয়াতে। সেখানেই রাখা হয়েছিল তাকে। যৌনপল্লির এক গ্রাহকের সাহায্যে প্রথম তিনি ভাইকে ফোন করেন।
উদ্ধারকাজে পুলিশের সঙ্গে থাকা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক প্রতিনিধি বলেন, তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় বিহারে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। খবর: আনন্দবাজার
ইত্তেফাক/জেডএইচ
